ইন্দোনেশিয়ায় ১৬২ জন যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ এয়ার এশিয়ার বিমানটি সমুদ্রের তলদেশে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা। বিমানটি রাডারের নিয়ন্ত্রণ থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তের যোগাযোগের তথ্য থেকে এই ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তা বামবাং সোলিয়েস্তুয়ু। খবর বিবিসির।

দেশটির উপকূল থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এদিকে বিমানটির খোঁজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনুসন্ধানকারী জাহাজ ও বিমান পাঠিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া এয়ারএশিয়ার বিমান এয়ারবাস এ৩২০-২০০ দেশটির সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সময় রোববার সকালে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঠিক আগে বিমানটির চালক খারাপ আবহাওয়া এড়াতে ওপরে উড়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে ‘এয়ার ট্রাফিকের সংখ্যা’বেশি থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

কর্মকর্তারা জানান, ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১ গতিপথ পরিবর্তনের অনুমতি চাওয়ার পাঁচ মিনিট পরই কোনো সিগন্যাল ছাড়াই জাভা সাগরের ওপর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।

এয়ারএশিয়ার বিমানটি বর্তমানে কোথায়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান সিলিতিও বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ পরবর্তী ধারণা অনুসারে, বিমানটি সাগরে পড়ে গেছে এবং বর্তমানে সেটি সাগরের তলায় আছে।’

ইন্দোনেশিয়ার বেসরকারি বিমান চলাচলকারী সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষের কাছ ফ্লাইটের রাডার তথ্য রয়েছে। আমরা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের জন্য অপেক্ষা করছি বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ খোঁজের জন্য। এরপর আমরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করব।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরে এর আগে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের দুটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত হয়। মার্চে জাকার্তা থেকে বেইজিংগামী মালয়েশিয়া এয়ার লাইন্সের এমএইচ-৩৭০ ফ্লাইটের বিমানটি ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ হয়, যার খোঁজ এখনো মেলেনি।

এরপর জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আর্মস্টারডাম থেকে কুয়ালালাপুরগামী একই বিমান সংস্থার এমএইচ-১৭ ফ্লাইটের বিমানটি ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটির ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হন। তবে এয়ার এশিয়ার কোনো বিমান এই প্রথম দুর্ঘটনায় পড়ল।

এমএ