নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রোববার পুনরায় স্কুলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়েছে।
হাজার হাজার শিশু স্কুলে পুনরায় হাজির হয়েছে। এদের অনেকেই বাড়িঘর ও প্রিয়জনকে হারিয়েছে। নেপালে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৮ হাজার ৬শ’ জনের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে।
২৫ মে আঘাত হানা ভূমিকম্পে স্কুলগুলো ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অনেক শিশু খেলার মাঠে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী শ্রেণীকক্ষ বা তাঁবুতে শিক্ষা গ্রহণ করছে। খবর এএফপি’র।
৮ বছর বয়সী সহজ শ্রেষ্ঠা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে হেঁটে হেঁটে রাষ্ট্র পরিচালিত মদন স্মারক স্কুলে প্রবেশ করে। স্কুলটি কাঠমান্ডু উপত্যকায় অবস্থিত।
তার মা মিনা শ্রেষ্ঠা বলেন, ভূমিকম্পে তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা তাঁবুতে বাস করার পর থেকে ছেলেটি তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে এমনকি শৌচাগারে যেতেও ভয় পায়।
তিনি আরো বলেন, ‘ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন এখনো চলছে। তাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তবে শিক্ষকরা সেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে এবং পুনরায় লেখাপড়া শুরু করলে অন্তত তার মন কিছুটা হলেও ভালো হয়ে যাবে।’
স্কুলের খেলার মাঠে বাঁশ দিয়ে শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা ভূমিকম্পের পর যেসব ভবনকে ‘নিরাপদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সেখানেও কিছু ক্লাস হচ্ছে।
শিশুরা ছবি আঁকা ও খেলার সময় শিক্ষকরা তাদের পাশে বসে থাকেন।
নয় বছর বয়সী মুসকান বজ্রচারিয়া বলে, ‘আমরা দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিলাম। এখন আমার বন্ধুদের সঙ্গে আবার খেলাধূলা করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’
উচ্চ শ্রেণীগুলোর ছাত্র-ছাত্রীরা ভূমিকম্পের সময় তাদের পরিবারের কি অবস্থা হয়েছিল বন্ধুদের কাছে তা বর্ণণা করে।
৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে নেপালের প্রায় ৮ হাজার স্কুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। গোরখা, সিন্ধুপালচোক এবং নুওয়াকোতের গ্রামীণ এলাকাগুলোতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলোর শতকরা ৯০ ভাগই এই অঞ্চলগুলোতে অবস্থিত।
শনিবার বিকেলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানার সময় স্কুলগুলো বন্ধ ছিলো। কোনো কোনো স্কুল পরের সপ্তাহে নতুন সেমিস্টারের ক্লাসের জন্য খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক দিল্লী রাম রিমাল আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো স্কুল খুলবে বলে আশা করছেন।
জেডআই





