পোলো খেলাকে বলা হয় রাজার খেলা। ইওরোপ এবং আমেরিকায় খুবই জনপ্রিয় এই খেলায় প্রয়োজন হয় ঘোড়া চালানোর দক্ষতা, দম আর দ্রুত গতির। কিন্তু পোলো খেলার জন্ম উত্তর-পূর্ব ভারতের মনিপুর রাজ্যে।
মনিপুর পোনি নামে পরিচিত ছোট্ট জাতের ঘোড়াকে নিয়ে সেখানে গান বাঁধা হয়, এমনকি সেখানে মন্দিরে ঘোড়ার পুজাও করা হয়। মনিপুরে ক্রিকেটের চেয়েও জনপ্রিয় পোলো খেলা।
বিবিসির সংবাদদাতা আনবারাসান এথিরাজন জানাচ্ছেন, শত শত বছর ধরে মনিপুরীরা ঘোড়ায় চড়ে `সাগল কানযেই` নামের এক ক্রীড়ায় যোগ দিয়ে থাকেন।
মনে করা হয় এই খেলাটিই আধুনিক পোলো খেলার পূর্বসূরী। আর ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সময় এই `সাগল কানযেই` থেকেই পোলো খেলার প্রচলন শুরু হয়।
এক সময় মনিপুরের পথে প্রান্তরে শত শত ঘোড়া দেখা যেত। ``কিন্তু মনিপুর পোনির আবাস ধীরে ধীরে মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে,`` বলছেন মনিপুরী পোনি সোসাইটির সম্পাদক ইবনগোছুবি নিংথাওখঞ্জাম, ``এসব ঘোড়া এক সময় থাকতো মনিপুরের সমতল আর জলাভূমিতে। কিন্তু সেই জলাভূমি এখন আর নেই।``
আগের মতো গ্রামীণ জনগণও আর এসব ঘোড়াকে খাবার দেয় না। চারণভূমির আয়তন কমে যাওয়ার ফলে এসব ঘোড়াকে এখন বাধ্য হয়ে জনবসতির কাছে আসতে হয়। খাবার খুঁজে নিতে হয় আবর্জনার স্তুপ থেকে।
বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদীরা বলছেন, এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। বিশেষভাবে প্লাস্টিকের ব্যাগ খাওয়ার পর ঘোড়াদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মুনিপুর পোনি রক্ষার জন্য সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব ঘোড়ার জন্য নির্দিষ্ট অভয়ারণ্য তৈরি না হলে মনিপুর পোনিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আন্দোলনকারীরা আশংকা করছেন।
এআর





