বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন-ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেছেন, আজকালকার ছেলেমেয়েদের সামনে এক ভয়ানক যন্ত্র রয়েছে। আর তা হচ্ছে মোবাইল। এই মোবাইল ও ফেসবুক বর্তমান প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ইরানের নতুন বছর নওরোজ উপলক্ষে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘নওরোজ উৎসব ও এর প্রেরণাদায়ক ঐতিহ্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক মান্নান আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলায় তারা সোহরাব-রুস্তম, আমীর হামজা, ইউসুফ-জোলেখা, শিরীন-ফরহাদ ও আলীবাবা চল্লিশ চোরের মতো বহু ঐতিহ্যবাহী এবং নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসমৃদ্ধ কাহিনী পড়তেন। এসব কাহিনীর মধ্যে যেমন প্রেম-ভালোবাসা ছিল তেমনি ছিল সততা, নীতিবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষা। কিন্তু আজকালকার ছেলে-মেয়েরা পড়ছে ডরিমোন, দেখছে ফেসবুক, চালাচ্ছে মোবাইল।
ইউজিসি চেয়ারম্যান পিতা-মাতাকে সন্তানদের সুশিক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই সতর্ক হওয়ার আহবান জানান।
ইরান প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের ইরান এক ভিন্নধর্মী ইরান। অনেক পশ্চিমা দেশই এখন ইরানকে সমীহ করে চলে। ইরান এমন একটি দেশ যারা ইসলামকে লালন করছে, কিন্তু বোমা মেরে ইসলাম কায়েম করতে চায় না।
অধ্যাপক মান্নান আরো বলেন, এই ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তার ঘটে সুফী-দরবেশদের মাধ্যমে। তাদের বেশিরভাগই ইসলামের দাওয়াতই দেননি। তারা প্রেম ও ভালোবাসার দাওয়াত দিয়েছিলেন। তাদের প্রেম-ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে দলে দলে মানুষ ইসলামের পথে এসেছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ কখনো লোকাল কালচার বা স্থানীয় সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহীত করে না। আর এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো ইরান। সে কারণেই খ্রিস্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে থেকে চালু হওয়া ইরানি নববর্ষ বা নওরোজ আজও নিজদেশ ও বিশ্বের নানা প্রান্তে পালন করছে দেশটি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজী দেহনাভী এবং প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ও নাট্য নির্মাতা মামুনুর রশীদ।
আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও ইরানের নওরোজ পালনের মধ্যে একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয় গান, কবিতা ও অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।
কেবি





