গত গ্রীষ্মে গাজা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই যুদ্ধাপরাধের তদন্ত অবশ্যই করতে হবেও বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার এ আহবান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। খবর ডনের।

অ্যামনেস্টি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৫০ দিনের এই অভিযানের শেষ ৪ দিনে ইসরায়েল যে চারটি বহুতল ভবন ধ্বংস করেছে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

এ ব্যাপারে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক ফিলিপ লুথার বলেন, "ইসরায়েল গাজায় যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা সুচিন্তিতভাবে করা হয়েছে। এসব ধ্বংসযজ্ঞের পিছনে কোন সামরিক যৌক্তিকতাও নেই। আমাদের প্রতিবেদনে এই ব্যাপারগুলো দেখানো হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "যুদ্ধাপরাধের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে হতে হবে এবং এতে দায়ী ব্যক্তিদেরকে নিরপেক্ষ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আওতায় আনতে হবে।"

লুথার আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বক্তব্য-বিবৃতি থেকে জানা যায় যে, এই আক্রমণটা ছিল গাজার জনগণের বিরুদ্ধে এক 'শাস্তি'। আর এজন্য পরিকল্পিতভাবে গাজার সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়।

অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে, গাজা হামলার সময় থেকেই জাতিসংঘের পরিচালনায় যুদ্ধপরাধের তদন্তে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল। তারা এ তদন্তকে 'পক্ষপাতমূলক' বলে দাবি করে।  

গত গাজার অভিযানের সময় জাতিসংঘ পরিচালিত বিদ্যালয়ে সুচিন্তিভাবে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। এর মধ্যে চারটি শিশুও রয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, ইসরায়েলের চালানো নিজস্ব তদন্ত হবে চরম পক্ষপাতমূলক।

উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্টে শেষ হওয়া দীর্ঘ ৫০ দিনের গাজা আগ্রাসনে দুই হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু ও বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে, গাজার প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের প্রতিরোধে ৭৩ ইসরায়েলি নিহত হয়। এর মধ্যে ৬৭ জনই সেনা সদস্য। সূত্র: ডন অনলাইন

এমএ