রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আইনে বিচারাধীন মিয়ানমারে আটক রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আগামী ২৭ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেছে আদালত।

আজ সোমবার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক শেষে এই রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

রাষ্ট্রের গোপন তথ্য নিজেদের সংরক্ষণে রাখার অভিযোগে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩১) ও কিয়াউ সয়েও (২৭)-কে আটক করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজের পর তাদের আটক করা হয়।

তারপর তাদের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আমলের দাফতরিক গোপনীয়তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আদেশ দেয় আদালত।

এরপর গত জানুয়ারি থেকে এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শুরু হয় রিমাণ্ড ও যুক্তি-তর্ক। সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ সোমবার রায়ের দিন ঘোষণা করা হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় গ্রাম ইনদিনে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা ১০ রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের রাখা হয় গণকবরে।

ঘটনার সরেজমিন অনুসন্ধানে নেমেছিলেন রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়েও। তখন থেকেই মিয়ানমারের আগ্রাসী আচরণের শিকার হতে থাকেন তারা।

পাশাপাশি মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে শুধুমাত্র ২০১৭ সালের আগস্ট থেকেই পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

এছাড়া ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের উগ্র সেনা ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে এসে আর ফেরত যাননি এমন রোহিঙ্গা রয়েছেন আরো প্রায় চার লাখ। সব মিলিয়ে প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশে। 

ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ ইয়ে লিউিইন রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ি উ’র বিরুদ্ধে দাফতরিক গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।

অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ওই অভিযুক্ত সাংবাদিকরা প্রথম থেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেছেন, তারা সাংবাদিকতার নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন।

তাদের পক্ষে রয়টার্সের নিয়োগকৃত আইনজীবী থান জাউ অং বলেন, তারা দু’জন সাংবাদিক হিসেবে শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম হিসেবে কাজ করার সময় তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।’

ব্রিটিশ শাসনামলে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ নামে এই আইন তৈরি করা হয়। ১৯২৩ সালে সে সময় বার্মা নামে ভারতীয় প্রদেশ হিসেবে ছিল মিয়ানমার।

আটকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারাও তাদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

জেড