জাপানে এটিএম বুথ থেকে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইয়েন (১০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা) তুলে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মাত্র দুই ঘণ্টায় সারা দেশের এক হাজার ৪০০টি এটিএম বুথ থেকে এ টাকা তুলে নেয় তারা।
চলতি বছরের ১৫ মে রাজধানী টোকিওসহ দেশের ১৭টি শহরে জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এ ইয়েন তুলে দুর্বৃত্তরা। আর এ কাজে জড়িত ছিল ১০০ জনের একটি দল।
রোববার সংবাদ সংস্থা কিয়োডোর বরাত দিয়ে জাপানের ইংরেজি দৈনিক দ্য জাপান টাইমস ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ইতিহাসে অন্যতম বড় এ ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
২০১২ ও ২০১৩ সালে দুই দফায় জাপানসহ বিশ্বের ২০টি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইয়েন তুলে নিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তবে একসঙ্গে ও দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির এ মহোৎসব অতীতে কখনো ঘটেনি।
পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ব্যাংক থেকে ‘ফাঁস’ হয়ে যাওয়া ১৬শ’ অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে জালিয়াত চক্র নকল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
তারা বলছে, শতাধিক দুর্বৃত্ত একযোগে এসব এটিএম বুথে ঢুকে বিপুল অংকের এ টাকা তুলে নেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের যোগসাঁজশে এ জালিয়াতি হয়েছে। জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে এ মহাচুরিতে মালয়েশিয়ার একটি গ্রুপ জড়িত বলে ধারণা জাপান পুলিশের। এ চক্রকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে তারা।
এটিএম বুথ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সাতটি ব্যাংকের বুথ ব্যবহার হয়েছে এ জালিয়াতিতে। ওইসব এটিএম বুথে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জালিয়াতিতে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে অ্যাকাউন্টের তথ্য কীভাবে ফাঁস হয়েছে তাও বের করতে জাপান পুলিশ, ইন্টারপোল ও দক্ষিণ আফ্রিকার ওই ব্যাংকটির কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এমআইএস





