মিশরের সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের তদন্ত চেয়েছে জাতিসংঘ।
এ সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার প্রধান নাভি পিল্লাই এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ওই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অনতিবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালানোর জন্য আমি মিশরীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মান বজায় রেখে ঘাতকদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছে।”
গত ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বৈরশাসক মুবারক বিরোধী বিপ্লব শুরুর বার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসির সমর্থকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও হামলায় অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়।
নাভি পিল্লাই একই সঙ্গে সহিংসতা পরিহার করার জন্য মিশরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটকের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব বন্দীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বলেন, মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জনগণের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হওয়ার শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বসবাস করার অধিকার মিশরের জনগণের রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মিশরের সেনাবাহিনী ২০১৩ সালের ৩ জুলাই দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যু করে। এরপর ওই বছরেরই ২৫ নভেম্বর মুরসির রাজনৈতিক দল ইখওয়ানুল মুসলিমিনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে এর সব ধরনের তত্পরতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের শাসনামলেও মিশরের বৃহত্তম এ রাজনৈতিক দলটি নিষিদ্ধ ছিল।
গত ২৫ জানুয়ারির বিক্ষোভে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী ‘নজীরবিহীন’ সহিংসতা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, গত বছরের জুলাই মাসে মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে; যাদের বেশিরভাগের প্রাণ গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যধিক বলপ্রয়োগের ফলে।
২৮ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // টিআই