ভারতের আসামে ট্রেন ধরতে স্টেশনে যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার হলো ১৫ বছরের এক কিশোরী। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসামের ডিব্রুগড়ে এ ঘটনা ঘটে। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন এ খবর জানিয়েছে।

স্টেশন চত্বরেই শনিবার মধ্যরাতে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। ধর্ষক চার কলেজছাত্রের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ রোববার ভোরেই গ্রেফতার করেছে।

কিশোরীটি রাতে ট্রেন ধরতে ডিব্রুগড় স্টেশনে পৌঁছনোর পর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বাড়ির পাশের এক কিশোরের সঙ্গে অটোরিক্সায় চড়ে সে ব্রহ্মপুত্র মেল ধরার জন্য যাচ্ছিল ডিব্রুগড় স্টেশনের দিকে। অটোটি তাদের নামিয়ে দেয় স্টেশনের বাইরে।

স্টেশনেই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল দু’জন। সে সময়েই চার কলেজ ছাত্র সেখানে হাজির হয়ে কিশোরীর সঙ্গীকে মারধর করে কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর চার ছাত্র একের পর এক গণধর্ষণ করে তাকে। কিশোরীটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষকরা তাকে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

ডিব্রুগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেণ্ট হিরণ্য বর্মন জানান, ঘটনার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা বাদে রাত দেড়টা নাগাদ পুলিশের একটি টহলদার দল ডিব্রুগড় স্টেশনের অদূরে রাস্তার ধার থেকে অজ্ঞান অবস্থায় কিশোরীটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে ডিব্রুগড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা বেশ সঙ্কটজনক বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় তার উপর শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে।

পুলিশ কর্মকর্তাটি জানান, ‘কিশোরীর প্রতিবেশী জানিয়েছে, ওই চার ছাত্র প্ল্যাটফর্মে তাদের কাছে এসে তাকে কিশোরীর থেকে আলাদা করে প্রচণ্ড মারধর করে। তারপর কিশোরীকে সেখান থেকে তারা তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালায়।’ তারই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ পুলিশ চার ছাত্রের মধ্যে তিনজনকে আটক করে। তাদের মধ্যে দু’জন স্থানীয় লাহোয়াল কলেজের ছাত্র। এদের কল্যাণ দত্ত ও প্রাণজিত দত্ত নামে পুলিশ শনাক্ত করেছে। অপরজনের নাম করণ গগৈ। সে অনিরু দেব কলেজের উচচমাধ্যমিকের ছাত্র। পলাতক ছাত্রটির নাম রাজু গগৈ। সে-ও লাহোয়াল কলেজের ছাত্র।

ঢাকা, ১১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ