বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের গ্যাসের পাইপলাইন টানা নিয়ে সমঝোতা হচ্ছে। এটা ভারতের সঙ্গেও হবে, বাংলাদেশও চাইলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘টক উয়িথ ইরান অ্যাম্বেসেডর’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা জানান তিনি।

ড.বায়েজি বলেন,বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে ইরান আগ্রহী। ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের কাছ থেকে তারা তেল নেয়। পাকিস্তান হয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতে গ্যাস সরবরাহের কাজও চলছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই আমরা। তাই বাংলাদেশ চাইলে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব। চট্টগ্রামে অবস্থিত তেল শোধনাগারটি আধুনিক করতে চাই। বাংলাদেশ থেকে আমাদের দেশে গার্মেন্ট পণ্যও আমদনি করতে চাই।

ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও লিবিয়ায় চলমান অস্থিরতার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে ভায়েজি বলেন, এগুলো আসলে বিদেশিদের সৃষ্টি। এতে ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষজন ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এটা অত্যন্ত অমানবিক।

তবে এসব দেশে অস্থিরতার ব্যাপারে কোন বিদেশি শক্তি দায়ী কিনা, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে তিনি কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এবছর বাংলাদেশের অনেক মন্ত্রী ইরান ভ্রমণ করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

জঙ্গী ইস্যু সম্পর্কে আব্বাস ভায়েজি বলেন, ইরান সবসময়ই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।ইরান অনেকবারই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সম্পাদন করে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছি। তালেবান বা নতুন গজিয়ে ওঠা আইএস, কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান।

ইরান রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ জার্মানির সঙ্গে মাসখানেক আগে আমরা পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়া ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ আরোপিত অবরোধের মধ্যে রয়েছি আমরা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তেমনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছি না। বর্তমান যুগে বিশ্বের কোনো দেশই একা পথ চলার সামর্থ্য রাখে না। আমাদের পক্ষেও তা সম্ভব নয়। এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে মুক্তি পাবো আমরা।

ডিক্যাব সভাপতি মাসুদ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ।

এমএ