‘জয় শ্রীরাম’ না বললেই অত্যাচারিত হয়ে খুনের শিকার হচ্ছেন ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এই একটি শ্লোগানকে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা।

তারই প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) কলকাতার একাধিক বিদ্বদ্জন চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সেই চিঠিতে পরিচালক-অভিনেতা অপর্ণা সেনের মতোই সই করেন অভিনেতা কৌশিক সেনও।

অভিযোগ, তারপরেই নাকি ফোনে কৌশিককে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতার শিল্পী মহলে।

কৌশিকের কথায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাহায্য চেয়ে দ্বারস্থ হন স্থানীয় প্রশাসনের। হুমকি ফোনের নম্বরটিও থানায় জানিয়েছেন তিনি।

ঠিক কী হয়েছে কৌশিকের সঙ্গে? সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতার দাবি, বুধবার (২৪ জুলাই) এক উড়ো ফোন আসে তাঁর কাছে। অজানা নম্বর থেকে এক অচেনা ব্যক্তি সরাসরি হুমকি দিয়ে তাঁকে বলে, পরধর্ম অসহিষ্ণুতা, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি নিয়ে কোনও কথা বললে বা প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খোলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে তাঁকে। মুখ না বন্ধ করলে প্রয়োজনে তাঁকে খুন করতেও হাত কাঁপবে না অচেনা ওই ব্যক্তির।

কলকাতা প্রশাসনের তরফ থেকে এক অফিসার জানিয়েছেন, অভিনেতা তাঁদের হস্তক্ষেপ চেয়ে সমস্তটাই জানিয়েছেন। পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ কেন হত্যার হুঙ্কার?, মোদীকে ৪৯ শিল্পী-বুদ্ধিজীবীর চিঠি 

যদিও অভিনেতার দাবি, তিনি একটুও ভয় পাননি এই হুমকি ফোনে। যাঁরা যাঁরা চিঠিতে সই করেছেন তাঁদের সবাইকে জানিয়েছেন পুরো ঘটনা। ফোন নম্বরও পাঠিয়েছেন সবাইকে। প্রত্যেকে আলাদা ভাবে আশ্বস্ত করেছেন তাঁকে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই (মঙ্গলবার) রাজ্যের সাহিত্যিক, অভিনেতা, পরিচালক সহ ৪৯ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি প্রতিবাদ  চিঠি পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি না দিলে হত্যারশিকার হচ্ছেন রাজ্যের মানুষ। এই ধ্বনি ধর্ম-জাতি বিদ্বেষের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অভিযোগ জানানো হয় ওই চিঠিতে।  

অবিলম্বে এই ধ্বনি বন্ধ না করলে খুব শিগগিরিই দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়তে পারে রাজ্যজুড়ে। সেই কথা জানিয়ে ধ্বনি বন্ধের অনুরোধ জানান সবাই।

তারপরেই খুনের হুমকি ফোন আসে কৌশিক সেনের কাছে। যদিও স্মারক চিঠি পাঠানোর পরেই ওই ৪৯ বিদ্বদ্জনের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।      

এমবি