আগামী ১০ বছরে বিশ্বের ১০ মিলিয়ন অর্থ্যাৎ এক কোটি উদ্বাস্তু মানুষকে রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও গৃহায়নের আওতায় আনার কর্মসূচি নিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে বিশ্বব্যাপী শুরু করা হয়েছে 'আই বিলং' নামের এক ক্যাম্পেইন। খবর আল জাজিরার।

২০২৪ সাল নাগাদ এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী পর্যবেক্ষকরা। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পৃথিবীতে প্রতি ১০ মিনিটে একটি উদ্বাস্তু শিশু জন্মলাভ করছে। এ ছাড়া বর্তমানে উদ্বাস্তুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই হচ্ছে শিশু।

ক্যাম্পেইনে ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান অ্যান্টনিও গুটেরেস ছাড়াও যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু এবং হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিসহ অনেক খ্যাতমান ব্যক্তিও। মঙ্গলবার তারা "১০ মিলিয়ন সিগনেচার টু চেঞ্জ ১০ মিলিয়ন লাইভস" (১০ মিলিয়ন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ১০ মিলিয়ন স্বাক্ষর) নামক একটি খোলা চিঠির উদ্বোধনের মাধ্যমে ক্যাম্পেইন শুরু করেন।

সংস্থাটির প্রধান গুটেরেস বলেন, "ঘরহারা মানুষ নিজের অস্তিত্বকে অপরাধ বলে মনে করে। বিশ্বের এই ১০ মিলিয়ন (এক কোটি) গৃহহারার দুঃখ ঘুচাতে আমরা ১০ বছরের জন্য এক ঐতিহাসিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।"

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ইরানের নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি, অপেরা গায়িকা বারবারা হেনড্রিকস, দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক হাগ মাসেকালা, আফগান বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক খালেদ হুসেইনি (বিখ্যাত উপন্যাস 'কাইট রানার'-এর লেখক) ও মডেল অ্যালেক ওয়েকও ছিলেন।

ইউএনএইচসিআর-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের ২৭টি দেশের মায়েদেরকে তাদের দেশে ফিরে যাওয়া আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও তারা জন্মসূত্রে সেসব দেশেই জন্মলাভ করেন।

এসব দেশহারা মানুষকে আগন্তুক মনে করা হয়। তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এসব উদ্বাস্তু লোকদেরকে বন্দী করে রাখা হয় এবং নির্যাতনও করা হয়। এমনকি দাসত্বের শৃঙ্খলেও তাদেরকে বন্দী করে রাখা হয়।

এমএ