ভারতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ১৫১ জন মন্ত্রীর মধ্যে মুসলিম রয়েছেন মাত্র একজন। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে কোনো মুসলিম মন্ত্রীই নেই। একমাত্র রাজস্থানে ইউনূস খান নামে একজনের ভাগ্যে মন্ত্রীত্ব জুটেছে।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং গুজরাটে মুসলিম জনসংখ্যা যথাক্রমে ১০.৬০, ৮.৪৭ এবং ৯.০৬ শতাংশ করে।

মহারাষ্ট্রে বিজেপি নামমাত্র একটি আসনে প্রার্থী দিলেও তিনি হেরে যান। হরিয়ানায় দুই জন মুসলিমকে প্রার্থী করলেও তারাও পরাজিত হন। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পাঞ্জাবে ১৩৫৯ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে মুসলিম বিধায়ক আছেন মাত্র ২২ জন। ছত্তিশগড় এবং গোয়ায় কোনো মুসলিম বিধায়কই নেই। পাঞ্জাব এবং মধ্যপ্রদেশে একজন করে মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন। গুজরাট এবং রাজস্থানেও একজন করে বিধায়ক রয়েছেন।

অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে অবশ্য মুসলিম জনপ্রতিনিধিত্বের হার কিছুটা ভালো। অবিজেপি শাসিত ১৩টি রাজ্যে ৫২ জন মুসলিম মন্ত্রী রয়েছেন।

অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জম্মু-কাশ্মীর, কেরালা, আসাম এবং উত্তর প্রদেশ। অবিজেপি শাসিত রাজ্যে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা ৩০০ জন। এর মধ্যে মন্ত্রী হয়েছেন ৫২ জন।

উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশে মুসলিম জনসংখ্যা ১৮.৫০ শতাংশ; এখানে ১৬.৬৩ শতাংশ বিধায়ক হলেও মন্ত্রী রয়েছেন ১৮ শতাংশ। বিহারে ১৬.৫৩ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার হার হলেও এখানে ৭.৪১ শতাংশ বিধায়কের মধ্যে ১০ শতাংশ মন্ত্রী হয়েছেন। কেরালাতে মুসলিম জনসংখ্যার হার ২৪.৭০ শতাংশ। এখানে বিধায়ক রয়েছেন ২৫.৭১ শতাংশ এবং ২৯ শতাংশ মুসলিম মন্ত্রী রয়েছেন।

অনেক জায়গায় দেখা গেছে, মুসলিম জনসংখ্যার হার ভালো। কিন্তু ডিলিমিটেশনের ফলে এসব জায়গার জনপ্রতিনিধিত্ব বদলে গেছে। এমনটিই জানিয়েছেন, মুভমেন্ট ফর এমপাওয়ারমেন্ট অব মুসলিম ইন্ডিয়ান্সের জেনারেল সেক্রেটারি নাভিদ হামিদ। তার অভিযোগ, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সব সময় চেষ্টা করা হয় মুসলিম জনপ্রতিনিধিত্ব কমানোর। সেই কারণেই দিন দিন মুসলিম সাংসদ, বিধায়ক এবং মন্ত্রীদের সংখ্যা কমছে বলেও তার অভিযোগ।

এমএ