মাত্র ১৭ বছর বয়সী পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাইয়ের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে রীতিমতো আলোচনার ঝড় উঠে বিশ্বব্যাপী। এর আগে এতো কম বয়সী কেউ নোবেল পুরস্কার পাননি। সেই দিক থেকে এটি একটি বড় রেকর্ড।

পাশাপাশি এবারের শান্তির নোবেল ভাগাভাগি হলো চির বৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ভারতের কৈলাস সত্যার্থী যৌথভাবে মালালার সাথে এই পুরস্কার পেয়েছেন। এটিও একটি রেকর্ড।

তবে, সব রেকর্ড যেন হার মেনেছে মালালা ইস্যুতে। মালালা বিতর্ক এমনিতেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিস্তৃত হয়ে আছে, তার ওপর নোবেল শান্তি পুরস্কার যেন জ্বলন্ত উনুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো ভূমিকা পালন করছে।

সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে মালালার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ঘটনাকে নানাভাবে তুলে ধরেছেন সচেতন নাগরিকরা। এমনই কয়েকটি মন্তব্য টাইমনিউজবিডির পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো:

আবু সালেহ ইয়াহিয়া

মালালা গেইমের সমাপ্তি কোথায়? পাকিস্তানী কিশোরী মালালা যে দিন গুলিবিদ্ধ হন সেদিন বিশ্বের প্রভাবশালী সকল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। অনেক মিডিয়া দিনের প্রধান সংবাদ, লিডিং হেডলাইন এবং কভার স্টোরি আকারে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মালালাকে নিয়ে আগেই রেকর্ড করা কিছু ভিডিও প্রচার হতে থাকে ধীরে ধীরে।

এমন একটি ভিডিও দেখার পরই আমার ভিতরে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, আগে থেকেই ভিডিও ডকুমেন্টারিতৈরি, মালালার বিভিন্ন ইচ্ছার প্রকাশ, সামাজিক কিছু প্রতিবন্ধকতার মাঝে বেড়ে উঠার চিত্র রেকর্ড অত:পর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং তারপরই বিশ্বমিডিয়ায় মাত্রারিক্ত হৈচৈ এসবের মাঝে কোন যুক্তিসঙ্গত যোগসুত্র না থেকে পারে না। তখনই বুঝা গিয়েছিল যে, তাকে নিয়ে অনেক গেইম এখনও বাকী।

তারপর যথারীতি পাশ্চাত্যে চলে যাওয়া, সেখানে শিক্ষার জন্য ভর্তি হওয়া, জাতিসংঘে তাকে বক্তব্য দেবার সুযোগ প্রদান করা এরকম নাটকের অনেক স্ক্রিপ্ট দেখেই বুদ্ধামহল মনে করেছিলেন তাকে একদিন নোবেল প্রাইজ দেয়া হবেই। কারণ মালালাকে যে জন্য তৈরি করা হচ্ছে তার পরিপূর্ণতার জন্য এ পুরস্কার দেয়া দরকার। আমাদের মনে আছে, বেনজির ভুট্টোকেও ঠিক এরকম একটি প্রক্রিয়ায় পাশ্চাত্যেই তৈরি করা হয়। তারপর পাকিস্তানে পুশব্যাক করে মুসলিম প্রধান একটি দেশে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী সবই করা হয়। পর্দার আড়ালের কারিগরেরা এভাবে বেনজিরকে দিয়ে তাদের ফায়দা হাসিলের পর তাকে বর্জন করে একসময়। দুর্দিনে বেনজির কাউকেই পাশে পাননি এবং তাঁর বেদনাদায়ক শেষ পরিণতির কথা সবাই জানেন।

বেনজিরের পর পাকিস্তানে একই চিন্তা-চেতনার আরেকজন বেনজিরের খুব প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদী চক্রের। সেই প্রয়োজন থেকেই মালালা তৈরির প্রক্রিয়া। পারমানবিক শক্তিধর একটি মুসলিম দেশে ধর্ম নিরপেক্ষ ধ্যান ধারণার বাইরের কোন শাসকই আধিপত্যবাদীদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি নওয়াজ শরীফ হোন, আর ইমরান খানই হোন।

অতএব সাম্রাজ্যবাদীদের খেলার পুতুল হিসেবে আগামী দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মালালার আবির্ভাব এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আরেকটু বয়স হওয়া প্রয়োজন, আরেকটু তাবেদারীর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং তরপরই পুশব্যাক করা হবে যথা সময়ে। কিন্তু এরপর কি? মালালা কি সেটা অনুধাবন করতে সক্ষম? অন্তত বেনজিরের শেষ পরিণতি থেকে তাঁর এতটুকু শিক্ষা নেয়া প্রয়াজন নয় কি?

বয়স, আবেগ, বর্তমান বাস্তবতা, ভোগ-বিলাস আর অবারিত সম্পদের হাতছানি তাঁর ও তাঁর পরিবারের চোখে যে রঙিন আবরণের সৃষ্টি করেছে তাতে তিনি পাকিস্তানের অতীত থেকে কোন শিক্ষা নিবেন বলে আশা করা যায়না। আমরা এ নাটকের শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায়...।

হাফিজ সাজু

বাস্তব কে কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা,কারনমালালা যদি ইরাকের মজলুম মানুষের কথা বলতো,আফগানিস্তানের মানুষের কথা বলতো, মায়ানমারে নির্যাতিত মুসলমানদের কথা বলতো, গাযা এবং ফিলিস্তিনের মা বোনদের কথা বলতো, তাহলে নোবেল দূরের কথা জংগি বলে সারা দুনিয়ায়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিতো।

মোস্তফা শাকেরুল্লাহ

একান্ত আশা ও শুভকামনা ছিল এই বছর শান্তিতে নোবেলটা যৌথভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রবীণ ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল পাবেন। কিন্তু আজকে খবরটা শুনে একদম মন ভেঙ্গে গেল।

জাহিদ হাসান

মালালা ইউসুফ জাইকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়ার যুক্তি খুজে পেলাম না। ওনার চেয়ে শতগুন বেশি অবদান রেখেছিলেন বেগম রোকেয়া। যখন সমাজে নারীরা গৃহবন্দী ছিল সেই সময়ে উনি শিক্ষার জন্য একাই লড়ে গেছেন। নোবেল শান্তি পুরস্কার এবার মালালাকে দিয়ে নোবেল পুরস্কারের মান একেবারে শুন্যের কোটায় নিয়ে আসলো বলেই মনে করি।

আমিনুল ইসলাম

মালালা কে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হবে আমেরিকা তা জানে ঐ ঘটনা ঘটার আগেই।একটু ভুল বললাম, ঘটনা নয়; নাটক। তালেবান তথা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওবামাকে দিতীয়বার নির্বাচিত করা দরকার- এটা তুলে ধরতেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের ঠিক আগ মুহূর্তে ২০১২ সালের শেষের দিকে এই "মালালা নাটক মঞ্চস্থ " করা হয়।তালেবান নয় বরং আমেরিকান সি আই এ হামলা করে স্কুল বাসে। মালালা শুধু এখানে স্ক্রীপ্ট ফলো করেছে মাত্র এবং করে যাচ্ছে। এখনো সে আমেরিকার হেফাজতেই আছে।

সাইয়েদ ইশতিয়াক রেজা

নোবল শান্তি পুরষ্কারের আগে মালালাকে মাথায় গুলি করে মেলে ফেলতে চেয়েছিল তালেবানরা। এখন তার দেশে থাকাই নিরাপদ নয়। পাকিস্তানের আরেক নোবেল পাওয়া বিজ্ঞানী ড. আবদুস সালাম শুধুমাত্র আহমদিয়া সম্প্রদায়ের হওয়ায় পাকিস্তান থেকে তাঁকে আইনী প্রক্রিয়ায় তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এমনকি মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে পাকিস্তান থেকে কেউ যায়নি।

শান্তি আর পাকিস্তান দুটো বিপরীত শব্দ। পাকিস্তান আজ পৃথিবীয় ভয়ংকর সব সন্ত্রাসী তৈরীর কারখানা। সেই মাটিতে এই ছোট্ট মেয়েটির লড়াইকে যারা খাটো করে দেখে তারাই তার নোবেল প্রাপ্তির সমালোচনা করছে। এর একটি বড় অংশ মৌলবাদি জঙ্গি গোষ্ঠির সমর্থক, মুখে একটু আধটু আধুনিকতার কথা তারা অবশ্য বলে।

আরেকদল হলো তথাকথিত বামপন্থি যারা সবকিছুর ভেতর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পায়। আরেকদল আছে উদারপন্থি.. তারা মনে করে এতো আগে মালালাকে এই পুরষ্কার না দিলেও চলত। কেন বাবা.. নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেয়ার ক্ষেত্রে কি বয়স বেধে দেয়া আছে?তালেবানদের মুখে সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত মালালার নোবেল শান্তি পুরষ্কার......

তাইফুর রহমান

কোন বিবেচনায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়? নোবেল পুরস্কারের আজকালকার উদ্দেশ্য কি তালেবানের মুখে চপেটাঘাত? শান্তির জন্য মালালার কি অবদান?

কেবি/কেএ