ডাক বিভাগের অনেক গাফিলতির কথা আমরা জানি। এ নিয়ে একসময় লেখালেখিও হয়েছে বিস্তর। তবে ইন্টারনেটের এ যুগে ডাকবিভাগ নিয়ে কে আর মাথা ঘামায় বলুন! তাই বলে গ্রাহকের ঠিকানায় চিঠি পৌঁছুতে ৮৩ বছর লাগবে? তাও আবার যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশে। ঘটনা তাহলে খুলেই বলি।

১৯৩১ সাল। ২৩ বছরের স্কুল শিক্ষিকা মারিয়াম ম্যাক মাইকেল চিঠি লিখেছেন তার মা ডোলিয়েনা ম্যাক মাইকেলকে। এক বা দুই নয়, দীর্ঘ নয় পৃষ্ঠার চিঠি। মা বলে কথা। কত ভালোবাসা, কত ভাবাবেগ গুজে দিয়েছেন পাতার ভাজে ভাজে। যথারীতি খামে ভরে ডাকটিকেট সেটে তা পোস্ট করে দিলেন। কিন্তু বেঁচে থাকতে সেই চিঠি হাতে পেলেন না ডোলিয়েনা। পুরোপুরি উধাও হয়ে গেল এত লম্বা একটি চিঠি। একে একে কেটে গেছে কয়েক যুগ। চিঠি ঠিকানায় গিয়ে পৌঁছুলো এই সেদিন। ততদিনে মারা গেছেন পত্রলেখক মারিয়াম। তারও বহুবছর আগে দেহ ত্যাগ করেছেন তার মা ডোলিয়েনা।

চিঠিটি কিন্তু সত্যি সত্যিই হারিয়ে গিয়েছিল। এই সেদিন পিটসফিল্ড পোস্টঅফিসের কর্মচারী মিকেলে রওয়েল পুরনো জিনিসপত্র ঘাটতে গিয়ে এটি খুঁজে পান। চিঠিটি দেখেই তিনি বুঝে যান এটি বহু দিনের পুরনো। চিঠির গায়ে যে সাটানো রয়েছে মাত্র ২ সেন্ট মূল্যের স্ট্যাম্প! তখন শুরু হল প্রাপকের খোঁজ। পোস্টমাস্টার এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা খুঁজতে খুঁজতে চিঠির মালিকিনের ঠিকানায় গিয়ে পৌছালেন। এরপর তারা এটি তুলে দিলেন ৬৯ বছরের অ্যান ম্যাক মাইকেলের হাতে। অ্যান হচ্ছেন পত্রলেখিকা মারিয়ামের ভতিঝি এবং প্রাপক ডোলিয়েনার নাতনি। এভাবেই দীর্ঘ ৮৩ বছর পর ভারমুক্ত হল মার্কিন ডাকবিভাগ!

এ ঘটনা জানার পর আপনাদের যদি মার্কিন ডাকবিভাগের প্রতি কিছুটা ক্ষোভ আসে তবে এর ইতিবাচক দিকটা নিয়েও ভাবতে পারেন। তারা কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিঠিটা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছে, হপিস করেনি। কিছুটা দেরি হয়েছে এই যা!

ঢাকা, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ