সিরিয়ার আসাদ সরকার বিরোধী বিদ্রোহী অংশকে প্রশিক্ষণ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সিরিয়াতে আগামী কিছুদিনের মধ্যে ৪০০ সেনাসদস্য পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সকে পেন্টাগন মারফত এই খবর জানানো হয়েছে। যদিও সিরিয়ার ঠিক কোথায় এই সেনা সদস্যদের পাঠানো হবে সেবিষয়ে কিছু বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অবশ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যখন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল তখন দেশটির বাইরের ভূমি ব্যবহার করতে হয়েছিল। মার্কিন কর্ণেল স্টিভ ওয়ারেন জানান, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদিআরব প্রশিক্ষণের জন্য তাদের ভূমি ব্যবহারের নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও তুরস্ক সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে সিরীয় বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচী মূলত বারাক ওবামার সিরিয়াতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশবিশেষ। ইসলামিক স্টেট এবং আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভে পেন্টাগন তৃতীয় পক্ষের সহায়তা ছাড়াই সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে এই প্রথম। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর পাঁচ হাজার বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং পরবর্তী বছরে আরও ১৫ হাজার বিদ্রোহীকে প্রশিক্ষেণের আওতায় আনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রশিক্ষিত বাহিনী সিরিয়ায় আসাদ সরকার এবং ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
কিন্তু উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে যখন মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহী অংশ যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন ইসলামিক স্টেট নামের সন্ত্রাসী সংগঠনটি বিদ্রোহীদের অঞ্চলে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই গড়ে উঠেছে। প্রকারান্তে, বিদ্রোহীরা ইসলামিক স্টেট বাহিনীর হয়ে অনেক স্থানে লড়াই করেছে এমন নজিরও পাওয়া যায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশিক্ষণ শেষমেষ ইসলামিক স্টেটের ঘরেই যাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
জেআই





