ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এই অবস্থায় দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত-সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা দরকার।
দিল্লি সফররত চীনা প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং-এর সঙ্গে হায়দারাবাদ হাউসে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, বছরের পর বছর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নির্ধারণের বিষয়টি ঝুলে আছে। তার সমাধান না হলে দু’দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হবে না।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমানার ভেতরে চীনের ঢুকে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সীমান্তে যা ঘটছে, তা নিয়ে আমি আমার উদ্বেগ জানাচ্ছি। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ভিত।
মোদি বলেন, উভয়পক্ষের স্পর্শকাতরতা ও উদ্বেগ নিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান থাকা চাই। সীমান্তে যদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বিরাজ করে তাহলে আমরা সম্ভাবনাগুলোকে ব্যবহার করতে পারি এবং একে অপরের অগ্রগতিতে যোগদান করতে পারি। এভাবেই বিশ্ব অর্থনীতিকে আমরা নতুন দিশা দিতে পারি।
এ সময় চীনা প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খুব শীঘ্রই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য আমরা কাজ শুরু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে আমরাও আগ্রহী।”
ভারত ও চীনের কাছাকাছি আসাকে এশিয়া তথা বিশ্বে এক বড় ঘটনা বলে বর্ণনা করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, তিনটি লক্ষ্য নিয়ে এই সফরে এসেছি আমি। প্রথম, দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি করা। দ্বিতীয়, ভারত-চীনের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত করা এবং তৃতীয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এমন পথে নিয়ে যাওয়া যাতে দু’দেশই একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, সীমম্ত সমস্যাকে আমাদের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে দেওয়া যায় না। দ্রুত সীমান্ত বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে হবে।
মোদি বলেন, এলাকায় শান্তির স্বার্থে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাকে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট করতে হবে। উত্তরে শি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির স্বার্থে চীন কাজ করবে। তিনি বলেন, সীমানা যখন সুনির্দিষ্টভাবে বিভাজিত নয়, তখন কিছু ঘটনা ঘটতে পারে।
বৈঠতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি পরবর্তী পাঁচ বছরে ভারতে পরিকাঠামো ও উৎপাদন প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। ১২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দুই নেতার বৈঠকে। চীন সেই সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানি ও উৎপাদনকে চীনের বাজারে প্রাধান্য দিতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ, চাষবাস ও জ্বালানি শিল্পের উৎপাদনকে। শি এবং মোদি অসামরিক পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছেন। সিনেমা এবং মহাকাশ গবেষণা নিয়েও দিল্লি-বেজিং সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি হয়েছে। দু’দেশই রাজি হয়েছে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়াতে।
এ দিনটিকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে এক ‘নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মোদী। তাঁর কথায়, “চীনের উদ্যোগে ভারতে দু’টি শিল্প পার্ক গঠন এবং আগামী পাঁচ বছরে দু’হাজার কোটি ডলার চিনা বিনিয়োগের বিষয়টিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। পাঁচ বছরের আর্থিক এবং বাণিজ্যিক উন্নয়ন পরিকল্পনা আমাদের আর্থিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে।
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





