এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় বাঙালি, অভিবাসী, সংখ্যালঘুরা মোটামুটি ওবামাকেই ভোট দিয়েছিলেন। তার অন্যতম প্রধান কারণ হয়তো বিনা কারণে ইরাকে বুশের আগ্রাসন। এ যুদ্ধ রিপাবলিকনাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলেছিল।

আবার সম্প্রতি আইএস নামধারী কিছু উগ্রবাদী মুসলমানরা যারা কখনোই সঠিক ইসলামকে চর্চা করে না তাদের কর্মকান্ড মানুষদের মনে একটা বিদ্বেষ তৈরি করেছে বিশেষ করে আমেরিকান ভোটারদের। যার ফলে ট্রাম্পের সহমর্মিতার জায়গায় উগ্রবাদিতার কিছু ভোটারের মন কাড়তে সহায়তা পেয়েছে। এদিক থেকে ট্রাম্পের সম্ভাবনা আলোচনা করা যায়।

মজার বিষয় হলো কট্টার হিন্দুত্ববাদীরা ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। কারণ ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধিতা তাদের দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়। মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এখন একজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসলে যে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হবে এবং নুতন যুদ্ধ শুরু হতে পারে তা বুঝতে পারছেন না কট্টরপন্থীরা।

যদিও শেষ মুহূর্তে হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যকার ব্যবধান অনেকে কমে এসেছে। তারপরও হিলারির সমর্থক ও উদারপন্থীদের আশা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, কলোরাডোর মতো বড় বড় অঙ্গরাজ্যগুলোয় যদি হিলারি জয়ী হন তাহলে প্রেসিডেন্ট হতে দরকার ২৭২ ইলেকটোরাল ভোট পেতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর খুব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

আর কিছুক্ষণ পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক বললে ভুল হবে না। কারণ দেশটির আড়াইশো বছরের ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত হয়তো একজন নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া যাবে? নাকি মার্কিনিরা রিপাবলিকান প্রার্থীকে বেছে নেবে? এসব প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে একদিন পরই। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে এ উত্তেজনা যেন গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে। এটা এখন আমেরিকার নির্বাচন নয় গোটা বিশ্বের নির্বাচনে পরিণত হয়েছে।

জেড