এই ঋণ চুক্তি নিয়ে নবম দফার আলোচনার জন্য গত ৩১ জানুয়ারি ১০ দিনের সফরে পাকিস্তানে এসেছিল আইএমএফের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার ছিল তাদের সফরের শেষ দিন বলে পাকিস্তানের এক্সপ্রেস জানিয়েছে। পাকিস্তানের অর্থ সচিব হামেদ ইয়াকুব শেখ বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন,“ঋণের পূর্বশর্ত পূরণে কী কী করণীয় সে বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। তবে স্টাফ লেভেল এগ্রিমেন্টের বিষয়ে পরে ঘোষণা দেওয়া হবে।”

গতকাল সকালে আইএমএফ এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঋণের পূর্বশর্ত পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সাথে আরো আলোচনা হবে। তবে এবারের কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়বস্তু আইএমএফ এর পর্ষদ সভায় উঠবে না।

আইএমএফের কাছ থেকে ২০১৯ সালে সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণেরজন্য আবেদন করে তখনকার ইমরান খান সরকার। আইএমএফ তখন প্রাথমিক সম্মতিও দেয়। কিন্তু মহামারীর মধ্যে ওই ঋণের বিষয়টি আটকে যায়। এর মধ্যে পাকিস্তানে সরকার যায় বদলে।

মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার ঋণ আলোচনা শুরু হলেও পাকিস্তান সরকার প্রাক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়টি আটকে আছে। সময়মত চুক্তি হলে ওই সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা ছিল আইএমএফ এর। এখন তা আর পাচ্ছে না পাকিস্তান।

পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবশেষ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা দিয়ে তিন সপ্তাহের আমদানি ব্যয়ও মেটানো সম্ভব না।

এদিকে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমছেই। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৩ ফেব্রুয়ারি দেওয়া হিসাব অনুসারে, চরম আর্থিক সংকটে থাকা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ১৭ কোটি ডলার কমে গেছে। এখন এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ডলার। খবর ডনের। আইএমএফের অর্থ ছাড় পেলে পাকিস্তানের পক্ষে অন্য উৎসগুলো থেকেও ঋণ পাওয়া সহজ হবে। আর এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান বলেছে, ঋণ পরিশোধ করতে গিয়েই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এদিকে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কোটি ডলার। এর ফলে দেশের মোট নগদ বৈদেশিক রিজার্ভ হয়েছে ৮৫০ কোটি ডলার।

পাকিস্তানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরিফ হাবিব লিমিটেড হিসাব করেছে যে রিজার্ভ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বনিম্ন অবস্থায় আছে। এ রিজার্ভ দিয়ে দুই সপ্তাহের কিছু বেশি আমদানি মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

আগের দিন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছিলেন, সরকার এবং আইএমএফের মধ্যে আলোচ্য বিষয়গুলো আজই নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনএইচ