সহিংসতার মুখে অপরিপক্ব জোড়া সন্তানের জন্ম হলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ সেবা জুটছে না। ওষুধ ছাড়াই ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাসপাতালের বেডগুলোতে আহতদের চিৎকার, নিরুপায় ডাক্তার। হাসপাতাল বা ডাক্তারি সরঞ্জামের অভাবে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না চিকিৎসকরা।

মুমূর্ষু মায়ের শেষ ইচ্ছা- ক্ষুধার যন্ত্রণায় যেন তার সন্তান না মরে। গত কয়েক দিনে হৃদয়বিদারক এমন চিত্র দেখা গেছে সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায়। রোববার থেকে শুরু হওয়া সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ান আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটি (এসএএমএস)।

ঘৌটায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা। খাদ্য ও পানীয়ের সংকটে কোনো রকমে বেঁচে আছেন সিরীয়বাসীরা। আত্মীয়স্বজনকে বাঁচাতে হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটছেন তারা। মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবের কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পূর্ব ঘৌটার একটি হাসপাতালে মাত্র ৮টি শিশু পর্যবেক্ষণ মেশিন। রয়েছে স্টাফ সংকটও। অবরুদ্ধ ঘৌটায় জন্ম নিয়েছে মোহাম্মদ ও আম্মার নামে দুই শিশু। ঘৌটা মেডিকেল সেন্টার জানায়, অপরিপক্ব হিসেবে জন্ম নেয়ার তাদের ইনকিউবেটরের মধ্যে রাখা হয়েছে। ধীরে ধীরে সেখানে বেড়ে উঠছে শিশু দুটি।

মেডিকেল সেন্টারের নার্স রাইম আবু আহমদ জানান, তাদের মাত্র ৮টি ইনকিউবেটর ও একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে শিশুদের চেয়ারে শুয়িয়েও অপারেশন করানো হচ্ছে। সিরিয়ার বাশার আল আসাদ বাহিনীর টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ডা. ওয়াসিম মোহাম্মদ বলেন, বিমান হামলায় তাৎক্ষণিক মৃত্যু কোনো বিষয় নয়। হামলা-পরবর্তী মৃতের সংখ্যা হবে আরও ভয়াবহ। পূর্ব ঘৌটাতে বেঁচে থাকা শেষ ক্যান্সার চিকিৎসক ওয়াসিম আরও বলেন, আমার রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮৮ জন। ওষুধের অভাবে এরই মধ্যে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।

বাকি সব রোগী এখনও সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ক্যান্সার শনাক্তের জন্য এক বালক ওই ডাক্তারের কাছে এলে তাকে কোনো মেডিকেল সহায়তা দিতে পারেননি তিনি। কারণ তার কাছে কোনো ওষুধসামগ্রী নেই। ডা. ওয়াসিম বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত সিরিয়া থেকে অবরোধ উঠছে, ততদিন একে একে সিরিয়ার সবাই মারা যাবে।

এসএম

আরও পড়ুন…..

ইসরাইলি বাহিনীর নির্যাতনে ফিলিস্তিনি যুবক নিহত