মালয়েশিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, এখন ফলাফলের অপেক্ষা। এরি মধ্যে ভোটগ্রহণ নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ। বুধবার বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়, এখন চলছে গণনার কাজ। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও অভিযোগ ছিল ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার। মাহাথির বলেছেন, ৫ টা বেজে গেলেও অনেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মুল্যবান ভোট দেয়ার জন্য।
এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাশিম আব্দুল্লাহ বলেন, ৫টার পরে ভোটদানের অনুমতি নেই। এটাই মালয়েশিয়ার নির্বাচন পদ্ধতি। কেউ এর বিরোধিতা করতে চাইলে আদালতে যেতে পারেন। এদিকে এই পদ্ধতিতে কতজন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল তা এখনও জানা যায়নি। ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত ভোটগ্রহণ কেন্দ্র না রাখার সমালোচনা করেন মাহাথির। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া কার্যকরী নয়। আর এই ভুল ভোটারদের না।
সংসদের ২২২ আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনে বুধবার সকালে ভোট দেওয়া শুরু করে মালয়েশিয়ার ভোটাররা। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা মাহাথির মোহাম্মদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় দেড় কোটি ভোটার স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেয়। সকাল নয়টায় নিজের আসনে ভোট দিয়েছেন নাজিব। প্রাক নির্বাচনি জরিপে তার জোটের বেশি আসন পাবেবলে আভাস পাওয়া গেলেও সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ মালয়েশিয়া গড়ে উঠেছে মাহাথির মোহাম্মদের হাত ধরেই। তবে নির্বাচনের আগে তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়াকে নতুন করে সাজাতে এখনও কিছু কাজ বাকি। ২২ বছরের শাসনামলে কিছু ভুল করেছেন বলেও কান্নাভেজা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মাহাথির। চেয়েছেন সংশোধনের সুযোগ। এখন প্রশ্ন, মালয়েশিয়ার জনগণ তাকে সেই সুযোগ দেবে কিনা। নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপগুলো বলছে ‘না’। যে দলের হয়ে ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন মাহাথির, জরিপে সেই দলের প্রার্থী নাজিব রাজাকেরই ক্ষমতায় ফেরার আভাস মিলেছে। সুবিধা মতোন নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণও করে নিয়েছেন এই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনে জিততে পারলে মাহাথির মোহাম্মদ সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সরকার প্রধান হবেন। যে দলের হয়ে ২২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির, এবার সেই দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচন করছেন তিনি।
এদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ বলছে, নাজিবের জয়ের সম্ভবনা ৮৫ শতাংশ। স্বাধীন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মারদেকা সেন্টার গত সপ্তাহে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে শাসকদেরই জয়ের সম্ভাব্যতা হাজির করেছে। ওই জরিপের ফলাফলে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা বাড়ার আাভাস মিললেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে নাজিবের দলকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনও সরকারি দলের সমর্থনে কাজ করেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কাগজে-কলমে কমিশন স্বাধীন হওয়ার কথা থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার করা হয়েছে বলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কেন সপ্তাহান্তে না করে সপ্তাহের মাঝখানে ফেলা হলো, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কার্যত ছয় জন বিরোধী নেতাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে কিছু প্রশ্ন সাপেক্ষ 'টেকনিক্যাল' ইস্যুতে।
এস আলম





