ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ১২ বছর ধরে চলা রাত্রিকালীন কারফিউ তুলে নেয়ার পর নগরীর বাসিন্দারা বাঁধভাঙ্গা উল্লাস প্রকাশ করে।
মধ্যরাতের পর স্থানীয় বাসিন্দারা বাগদাদের মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে, হর্ন বাজিয়ে ও রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। খবর এএফপি’র।
রোববার ভোরে এক যুবক একটি গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে ‘ইরাক দীর্ঘজীবী হোক!’ বলে চিৎকার করে স্লোগান দেয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি দীর্ঘ দিন ধরে চলা কাউফিউ তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পর প্রথম রাতে এই উল্লাস প্রকাশ করে বাগদাদের বাসিন্দারা। এখন থেকে তারা রাতের বেলা যতক্ষণ ইচ্ছা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবেন। মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ ছিল।
যারা উল্লাস প্রকাশ করে তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল যুবক। এদের অনেককে উচ্চ আওয়াজ বিশিষ্ট ও বড় ইঞ্জিল চালিত আমেরিকান গাড়ি চালাতে দেখা গেছে। কোন কোন পরিবার গাড়ি চালিয়ে এই আনন্দ উল্লাসে যোগ দিতে বেরিয়ে আসে। এর আগে তারা তা করতে পারত না।
নিরাপত্তা বাহিনীর যে সদস্যরা কারফিউ চলকালে গাড়ি থামাতো, শনিবার রাতে তারা শান্তভাবে দাঁড়িয়ে মানুষের আনন্দ মিছিল দেখছিল।
বেশ কয়েকজন চালক তাদের গাড়ি জাদরিয়াহ সেতুর এক পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখে। বেশ কয়েকজন যুবক তাদের গাড়ির মিউজিক সিস্টেমে জোরে গান বাজিয়ে তালে তালে নাচে।
ছাত্র আলি মজিদ মোহসিন জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কারফিউ তুলে নেয়া উপলক্ষ্যে এই জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়।
সে রূপালী রঙের একটি ডজ চার্জার গাড়ি চালাচ্ছিল। গাড়িটির একপাশে ইরাকের পতাকা উড়ছিল।
মধ্যরাতের পর মধ্য বাগদাদের প্রধান বিপণী সড়ক কাররাদা দাখিলের একটি ক্যাফের সামনে একদল লোক হুক্কা খাচ্ছিল। ক্যাফের মালিক ফায়েজ আব্দুলিল্লাহ্ আহমেদ বলেন, ‘এর আগে আমাদের মনে হতো যেন আমরা কারাগারে বন্দি আছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেরকে রাত ১২টার মধ্যেই বাড়ি ফিরতে হতো। তাই সাড়ে ১১ টায় দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিতে হতো। এখন আমারা যত রাত পর্যন্ত ইচ্ছে বাড়ির বাইরে থাকতে পারি।’
একটি পোশাকের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একদল যুবক সিগারেট খাচ্ছিল।
দোকানের মালিক মারওয়ান হাশেম বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।’
তিনি আরো বলে, ‘মধ্যরাত হয়ে গেলে আমরা রাস্তায় বেরুতে পারতাম না।’
বাগদাদে সহিংসতার রাশ টেনে ধরতে রাতের বেলা চলাফেরা সীমিত করার লক্ষ্যে এই কারফিউ জারি করা হয়। তবে এই পদক্ষেপ সহিংসতা বন্ধে সামান্যই ভ’মিকা রাখে। নগরীতে জঙ্গিরা প্রায়ই ভয়াবহ বোমা হামলা চালায়।
এদিকে কারফিউ তুলে নেয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত ও ৭০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে।তবে এ সত্ত্বেও ইরাকিরা এখন আগের তুলনায় অনেক অবাধে চলাফেরা করতে পারছে।
জেডআই





