ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনে নতুন রুশ হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ডনবাসে নতুন হামলার জন্য রাশিয়ান সৈন্যদের জড়ো করা হয়েছে। আমরা এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া রাজধানী কিয়েভ এবং আরেকটি প্রধান শহর চেরনিহিভে সামরিক অভিযান কমানোর আলোচনার বিষয়ে রাশিয়ার বিবৃতিতে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, আমরা কাউকে বিশ্বাস করি না, আমরা কারও মুখের সুন্দর কথা বিশ্বাস করি না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, শহরগুলোতে সামরিক তৎপরতা কমিয়ে দেবে বলে রাশিয়ার ঘোষণা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার একদিন পর রাশিয়ান বাহিনী কিয়েভ ও চেরনিহিভের ওপর হামলা চালিয়েছে।

ডনবাস অঞ্চলে তীব্র হামলার পাশাপাশি ইরপিনেও মারাত্মক হামলার খবর পাওয়া গেছে।

নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ইউক্রেনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আমরা কিছুই ছাড়ব না। আমরা আমাদের প্রতি মিটার ভূমি এবং প্রতিটি ব্যক্তির জন্য লড়াই করব।

এদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউক্রেনের অবরুদ্ধ বন্দর শহর মারিউপোলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তবে সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৯ লাখ মানুষ। এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনের এক হাজার ১৭৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা এবং রাশিয়ার ১৭ হাজার ৩০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের ১ হাজার ৩৫১ সেনা নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। তথ্যসূত্র : বিবিসি।

এবিএস