পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশী সীমার মধ্যে ঢুকে মিয়ানমার কিংবা ভারতীয় ট্রলারের ইলিশ মাছ ধরার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
আজ (রোববার) পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই অভিযোগে অনেক বিদেশী ট্রলার ও তার মাঝিদের আটক করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ড এই দায়িত্ব পালন করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নরওয়ে, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও সুইডেন সফর এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১-তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলনের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার আইসল্যান্ড সফর সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম আইসল্যান্ড সফর।
তিনি বলেন, আইসল্যান্ড আগ্নেয়গিরি ও গভীর সমুদ্রকে জয় করে সম্পদে পরিণত করেছে। শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবে নয়, প্রযুক্তির সহায়তায় মাছের মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ওষুধ, সীফুড, মাছের চামড়া দিয়ে কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাথে তাঁদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ থেকে লাভবান হবে।
এ সময় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, আইসল্যান্ডের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরার পরিকল্পনা করছে সরকার যা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, অথচ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমান্তের অনেক ভেতরে ঢুকে প্রতিনিয়ত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ট্রলার এবং কিছু কিছু মিয়ানমারের ট্রলার ইলিশ মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে- এ ব্যাপারে সরকারের কোন পদক্ষেপ আছে কীনা?
এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, আইসল্যান্ডের সাথে তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের কোন প্রযুক্তিই বর্তমানে বাংলাদেশের কারো নেই। সাগরে ইলিশ মাছ ধরার যেসব ট্রলার বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরছে, গভীর সমুদ্রের ধারে কাছেও যেতে পারবে না সেগুলো। আর সেই জায়গাতেই আমরা মাছ শিকার করার ব্যাপারে আইসল্যান্ডের সহায়তা চাই।
মন্ত্রী বলেন, এটা সম্ভব হলে গভীর সমুদ্র থেকে আমরা বিপুল পরিমান সামুদ্রিক মাছ ধরতে পারবো যা আমাদের গোটা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমানার অনেক ভেতরে প্রবেশ করে ভারতীয় বড় বড় ট্রলার ইলিশ মাছ শিকার করছে। ভারতের সেই মাছ শিকারের ট্রলারগুলোতে সশস্ত্র গার্ডও থাকে। বাংলাদেশী মাছ শিকারের ট্রলারগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওইসব ট্রলারের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোন পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ জেলেদের। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী জেলের সাথে সরাসরি কথা বলে এই প্রতিবেদক এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন।
বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সরকার এ বিষয়ে তরিৎ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জেলেদের দাবি।
কেবি





