ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল যোদ্ধাদের মধ্যে ভয়াবহ লড়াইয়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক লোক পশ্চিম মসুল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার একদিনেই ১৪ হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা যায়। শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানিয়েছে। এদিকে নারী ও শিশু বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

দেশটিতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, তখন এই অসংখ্য মানুষের চলে যাওয়ার খবর আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই পলায়নের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম মসুলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী অভিযান আরম্ভ করে। এরপর গত বৃহস্পতিবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত (আইডিপিএস) হওয়ার খবর পাওয়া গেল। সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর বাস্তুচ্যুতদের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজারে।

এর আগে জাতিসংঘ সতর্ক করেছিল, আইএসআইএল’র শক্তিশালী ঘাঁটি এ গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে প্রত্যেক দিন প্রায় ৪ হাজার বেসামরিক লোক অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে। এরপরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হলো। শহরের পূর্বে খাজের শরণার্থী শিবির থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌথ বাহিনীর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে এসেছে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, কোথায় যে তারা নিরাপদ আশ্রয় পাবেন তা অন্বেষণে সারাদেশ ঘুরতে থাকেন। এদিকে ত্রাণ কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে, কেন না পশ্চিম মসুলে জনসংখ্যা অনেক বেশি এবং ঐসব এলাকায় এখনো সহিংসতা শুরু হয়নি।
আল জাজিরা