সোমবার (৩০ জানুয়ারি) মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় জেরেজ শহরের নাইটক্লাবে বন্দুকধারীর গুলিতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। মেক্সিকান পুলিশের বরাত দিয়ে এএফপি’র প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জাকাতেকাস প্রদেশের জেরেজ শহরে স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাত ও শনিবারের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভারী অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা দু’টি গাড়িতে করে বারে এসে ঢুকে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে বলে দেশটির নিরাপত্তা সচিবালয়ের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে।

গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থলেই ছয়জনসহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জন মারা যান। বন্দুকের গুলিতে আহত পাঁচজন রোববার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে এএফপি জানিয়েছে।

স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ক্লাবের কর্মচারী, সংগীতশিল্পী এবং নাইটক্লাবের গ্রাহকরাও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবর্ষণের পর ক্লাবের মেঝে রক্তে ভেসে যাওয়ায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই জাকাতেকাস প্রদেশে ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। এর আগে গত বছরের জুন মাসে একই প্রদেশের ভালপরাইসো এলাকা থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দু’টি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তারা নিহত হয়েছিলেন বলে সেসময় জানানো হয়েছিল।

সহিংস অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মেক্সিকোতে বেড়েই চলেছে। এছাড়া জাকাতেকাস প্রদেশেও এ ধরনের ঘটনা ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে। এর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে প্রায়ই প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক পাচারকারী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অনেক সময় ক্ষমতা ও স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র দলগুলোও একে অন্যের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

কেবল জাকাতেকাস প্রদেশে সহিংস অপরাধের ঘটনা যেন একেবারেই সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তর আমেরিকার এই দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের প্রথম ১০ মাসে জাকাতেকাস প্রদেশে এ ধরনের সহিংসতায় ৯৪৮ জন নিহত হয়েছিলেন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিনশো বেশি।

এএফপি বলছে, মাদক চোরাকারবারের জন্য মেক্সিকো কুখ্যাত। ২০০৬ সালে সরকার মাদক কারবারিদের দমনে কেন্দ্রীয় সেনাদের নামানোর পর মাদক সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় দেশজুড়ে তিন লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে।


এনএইচ