বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলবিজয়ী মালালা ইউসুফজাই আর চিকিৎসক হতে চান না। এখন তার একটাই স্বপ্ন- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে জন্মভূমির সব সমস্যার সমাধান করা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের নারী আন্দোলনকর্মী মালালা তার এ স্বপ্নের কথা বলেছেন।

মালালা জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে অধ্যয়নের পরিকল্পনা করেছেন।

নিজের স্মৃতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শৈশবে তারা জানতেন মেয়েরা শুধু চিকিৎসক, শিক্ষক বা গৃহিণী হতে পারে। কিন্তু তারা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় এই বিশ্বাস থেকে সরে আসেন।

মালালা বলেন, আমি যখন রোল মডেল হিসেবে নারীদের ভূমিকার কথা ভাবলাম তখন আমার দৃষ্টি প্রসারিত হলো। আমি দেখলাম নারী নেত্রীদের মধ্যে বেনজির ভুট্টো দু'বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আমি নারী অ্যাথলেট, নারী মহাকাশচারী, নারী শিল্পী এবং নারী উদ্যোক্তাদের কথা শুনেছি। তাদের কথা শুনে আমার মনে হয়েছে নারী হিসেবে আমার কিছু জীবনেও অর্জন করার মতো আছে। এরপর আমি আমার স্বপ্ন পরিবর্তন করে চিকিৎসকের পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শিক্ষার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখছি।

মালালা বলেন, শিক্ষা ছাড়া দ্বিতীয় কিছুর জন্য আমি নিজেকে কল্পনা করতে পারি না। মেয়ে ও নারীদের জন্য শিক্ষা সবচেয়ে অপরিহার্য।

তিনি বলেন, মেয়েদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার অর্থ শুধুমাত্র বই পড়ে পরীক্ষায় পাস করে চাকরি পাওয়া নয়। এটি নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাধীনতা ও বেড়ে উঠার জন্য দরকার।

অনুষ্ঠানে নারীদের নির্ভরশীল হয়ে ওঠার ব্যাপারে উদ্বেগ জানান মালালা। তিনি বলেন, মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এমন এক বান্ধবীকে স্মরণ করছি। সে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। আমি আরো অনেক নারীকে স্মরণ করছি, যারা তালাকপ্রাপ্ত অথবা স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবা এবং ভাইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে মালালা নারী শিক্ষার প্রসারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আমিরের স্ত্রী ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের শিশু শরণার্থী বিষয়ক আইনজীবী শেইখ জাওয়াহের বিনতে মোহাম্মদ আল কাশিমির ভূমিকার প্রশংসা করেন।

মালালা বলেন, আমাদের সীমার বাইরে স্বপ্ন দেখতে নারীদেরকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এ জন্য আমাদের রোল মডেল দরকার।

শেইখ জাওয়াহকে 'রোল মডেল' আখ্যা দিয়ে মালালা বলেন, তিনি নারী ও শিশুদের পরিবর্তনের জন্য শুধু স্থানীয়ভাবেই নন, বিশ্বব্যাপী কাজ করছেন।

জারিফ