জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি নিয়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ক খুব দ্রুতই তিক্ততার দিকে গড়াচ্ছে। রোববার তা নতুন মোড় নেয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, জেরুজালেমকে রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার বিতর্কিত মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন তিনি। একইসঙ্গে ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, দখলদার রাষ্ট্রটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এমনকি শিশুদেরকে পর্যন্ত হত্যা করছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।

ইস্তাম্বুলে এক ভাষণে এরদোগান বলেন, ‘ফিলিস্তিন নিষ্পাপ, অত্যাচারিত। অন্যদিকে ইসরাইল একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। জেরুজালেমকে আমরা এমন একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের দয়ার ওপর ছেড়ে দিতে পারি না, যা শিশুদেরকে হত্যা করছে।’

এরদোগানের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর ফ্রান্স সফরকালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের নেতা ‘ইসরাইলকে আক্রমণ’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নৈতিকতার ব্যাপারে নসিহত শুনতে আমি অভ্যস্ত নই।

বিশেষ করে এমন একজন নেতার পক্ষ থেকে, যিনি তার নিজের দেশের কুর্দি গ্রামগুলোতে বোমা বর্ষণ করছেন, নিজের দেশের সাংবাদিকদেরকে কারাদণ্ড দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ইরানকে সহযোগিতা করছেন এবং নিজেই গাজার সন্ত্রাসীদেরকে সহায়তা করছেন ও নিরীহ জনগণকে হত্যা করছেন। তার মতো মানুষ আমাদেরকে নসিহত দিতে পারেন না।’

ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মপরায়ণ এরদোগান এর আগে জেরুজালেমকে ‘আমাদের নয়নের মনি’ এবং মুসলিমদের ‘চরম সীমা’ বলে মন্তব্য করেছেন। এরদোগান বলেন, আমেরিকার সিদ্ধান্ত তুরস্ক মানে না। তিনি জেরুজালেম ঘোষণার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

জোরদার করার অংশ হিসেবে শনিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন এরদোগান। আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে তিনি মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তম সংস্থা ওআইসির চেয়ারম্যান। ১৩ ডিসেম্বর ইস্তাম্বুলে ওআইসির বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন তিনি। এরদোগান বলেন, ওআইসির বৈঠকের মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দেব, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করা সহজ হবে না। তিনি আরও বলেন, জেরুজালেম মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর। এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ- এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে শান্তির পথে এগোতে হলে জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী-ফিলিস্তিনিদেরকে এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর প্রথম ইউরোপে সফরে গিয়ে প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাত্রেঁদ্ধার সঙ্গে আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা এ বাস্তবতাকে যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবে, তত তাড়াতাড়ি আমরা শান্তির পথে এগোতে পারব।’