দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র ভারত। কৃষি, শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, সমর শক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে দেশটি। তবে শিক্ষার দিক দিয়ে ভারতের পিছিয়ে পড়া দেশটির সামগ্রিক অগ্রগতিতে বড় ধরণের ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ২০১৩-১৪ বছরের এডুকেশান ফর অল গ্লোবাল মনিটরিং শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিরক্ষর মানুষের দেশ ভারত।
এই সংখ্যা ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় সমান। জানা গেছে ভারতে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রায় ২৯ কোটি মানুষ এখনো নিরক্ষর। বিশ্বের নিরক্ষর মানুষের ৩৭ শতাংশই ভারতে বসবাস করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে ১৯৯১ সালে ভারতে সাক্ষরতার হার ছিল ৪৭ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে দেশটিতে সাক্ষরতার হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ শতাংশে।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের মহিলারা এতটাই বৈষম্যের শিকার যে ২০৮০ সালের আগে দেশটির সব মহিলার সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হয়ে ওঠার কোনোই সম্ভাবনা নেই। প্রতিবদেনে মন্তব্য করা হয়েছে ভারতের মহিলারা যেদিন সবাই শিক্ষিত হয়ে উঠবেন সেদিন দেশটিতে শিশু মৃত্যুর হারেও উন্নতি করবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে দারিদ্র্যতার কারণে ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে শিশুদের স্কুল ত্যাগের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই দুটি রাজ্যে পঞ্চম শ্রেণীতে উঠার আগেই অর্ধেক শিশু স্কুল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। সামন্ত প্রথার সমাজ ব্যবস্থায় ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্রিশগড় প্রভৃতি রাজ্যে শিশু শিক্ষার পরিস্থিতির সঙ্গে আফ্রিকার অনেক দেশের পরিস্থিতির তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আসতে ভারত নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশটির সাফল্য এখনো অনেক সমকাতারের দেশের পেছনে।
ঢাকা, এএম, ১ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর