আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। দিবসটি সারাবিশ্বে বিভিন্নভাবে পালন করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক এই জনগোষ্ঠী বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক কারণে পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। তবে, নারীদের ভাগ্যের উন্নয়নে যুগে যুগে কিছু মহীয়ষী নারী জন্ম নিয়েছেন যাঁরা নারীদেরকে জেগে উঠার ডাক দিয়ে গেছেন। এবারের নারী দিবস উপলক্ষ্যে এমন কয়েকজন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে 'ফ্লিট স্ট্রিট ফক্স' নামের একটি সংগঠন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394258158.jpg[/img]
[b]মা:[/b] হ্যাঁ, প্রথমেই যাকে রাখা দরকার তিনি হলেন প্রত্যেকের মা। আপনার মা-ই হলেন আপনার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণাদায়ী মহিলা। তাই অন্য নারীদেরকে আলোচনার আগে প্রত্যেকেই নিজ নিজ মাকে আগে অবস্থান দিই।
বুদিকা: লন্ডনের অধিবাসী বুদিকা একজন সাধারণ নারী ছিলেন। কিন্তু তার ও তার পরিবারের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তা বিশ্ব ইতিহাসে সবার মনকে আলোড়িত করে যাবে যুগের পর যুগ। মধ্যযুগের বুদিকা দুই মেয়ে নিয়ে বাস করতেন। তিনি ছিলেন বিধবা। কিন্তু স্বামীর সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়। সৈন্যবাহী তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। তার চোখের সামনে দুই মেয়েকে ধর্ষণ করে সৈন্যরা। তাকেও ব্যাপক মারধর করে এবং ধরে নিয়ে গিয়ে পরে নির্যাতন করে হত্যা করে। তবে, যাওয়ার আগে তিনি তার বাড়ির সীমানায় কালো ছাই দিয়ে একটি দাগ টেনে যান। এই দাগটিই তাকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394258186.jpg[/img]
[b]এলিজাবেথ ১:[/b] তার বাবা খ্রিস্টান বিশ্বকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছিলেন একটি ছেলে সন্তানের আশায়। কন্যা সন্তান জন্মদানের 'অপরাধে' তার মায়ের শিরোশ্ছেদ করা হয়। এই অপ্রত্যাশিত মেয়েটি (এলিজাবেথ) দোলনায় অবহেলায় বড় হতে থাকে। তার লিঙ্গ পরিচয়ই তাকে যেন দুর্বল করে দিয়েছিল। তার জন্মই হয়েছিল যেন বিয়ের জন্য। কিন্তু তিনি তার সমবয়সী বিপরীত লিঙ্গধারীদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। নব নব আবিষ্কার আর সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখেন ব্যাপক। ছয়টি ভাষায় তিনি কথা বলতে ও পড়তে পারতেন।
[b]তিল্লি শিলিং:[/b] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একজন মোটরসাইক্লিস্ট ও বিমানের ইঞ্জিনিয়ার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার রোলস রয়েস গাড়িগুলোর ইঞ্জিনে একটি সমস্যা দেখা দেয়। ফলে শত্রুপক্ষের ফায়ারিং থেকে রোলস রয়েসগুলো নিজেকে সেভ করতে পারতো না। তিল্লি এই ইঞ্জিনের উন্নতি সাধন করেন। তার এক সহকর্মী তাকে বিয়ে করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এই কারণে যে, তার লক্ষ্য ছিল মোটর সাইকেলের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার তোর পর্যন্ত তিনি বিয়ে করবেন না।
রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন: রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন নামের এই নারীই সর্বপ্রথম ডিএনএ'র এক্স-রে ইমেজ তৈরি করেন। তার এ ইমেজের অনুসরণেই পরবর্তীতে ডিএনএ নমুনা তৈরি করেন বিজ্ঞানী ওয়াটসন। পোলিও টিকা ও তামাকজনিত কারণে সৃষ্ট এক ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধক টিকা আবিষ্কারে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখেন। 
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201403/1394258209.jpg[/img]
[b]এলিজাবেথ গ্যারেট অ্যান্ডারসন:[/b] এলিজাবেথ গ্যারেট ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নারী হওয়ায় তার ডাক্তার হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তিনি মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কিন্তু তার গ্র্যাজুয়েশন বাতিল করা হয়। এরপর তিনি প্যারিসে চলে যান। সেখানে তাকে যোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। তিনি গঠন করেন হার্লি স্ট্রিট, এটিই হচ্ছে বিশ্বে নারীদের জন্য গঠন করা সর্বপ্রথম মেডিক্যাল স্কুল। এটিকে পরে মহিলা হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়।
[b]অং সান সুকি:[/b] মিয়ানমারের অবিসংবাদিত গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী ছিলেন। দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে এই নারীকে বিশ্ববাসী সম্মান করে। জিতে নিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। সূত্র: মিরর অনলাইন
[b]ঢাকা, ৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]