বিএনপি জামায়াত সমর্থিত প্রবাসী বাংলাদেশী মুসল্লিদের প্রতিবাদের মুখে নিউ ইয়র্কে পন্ড হয়ে গেছে সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর পূর্বনির্ধারিত (রবিবার ৫ ই জুলাই) আলোচনা সভা ইফতার মাহফিল।
রোববার নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা ও ব্রুকলিনে দুই দফা আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরী হওয়ায় নিউ ইয়র্ক পুলিশ নির্ধারিত আলোচনা সভা করতে দেয়নি।
নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ মিশনে গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আল্লাহ, ইসলাম, মহানবী (সা.) ও নারীর পর্দা নিয়ে মন্তব্য করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। ওই বক্তব্যের পর প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীরা। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠে নিউ ইয়র্কের আলেম সমাজ ও বিএনপি জামাত সমর্থিত মুসল্লিরা।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেবার জন্য ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার’ নামের একটি সংগঠন রোববার নিউ ইয়র্কে জ্যামাইকায় এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।
জ্যামাইকার তাজমহল পার্টি হলে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে এমন খবর পেয়ে রবিবার সকাল থেকে সেখানে জড়ো হন প্রবাসী আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষ। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

প্রতিবাদের মুখে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সংবর্ধনার স্থান পরিবর্তন করেন আয়োজকরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘গাফ্ফার চৌধুরী অসুস্থ হওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে আসছেন না। ব্রুকলিনের সভায় অংশ নেবেন।’
এ বিষয়ে তাজমহল পার্টি হলের অন্যতম মালিক মাসুম খান সাংবাদিকদের জানান, ‘ আমরা ব্যবসা করতে বসেছি। কোনো রাজনীতি করতে না। আজকের অনুষ্ঠানকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করেছি। আয়োজকদের আমরা জানিয়ে দিয়েছি আগে বুকিং করা হলেও আমরা অনুষ্ঠান করতে দিতে পারছি না।’
তবে জ্যামাইকার মুসল্লিদের দাবী তাদের প্রতিবাদের মূখেই পুলিশ আওয়ামী পরিবারের সমাবেশ করতে দেয়নি।
জ্যামাইকায় প্রতিবাদ
জ্যামাইকায় তাজমহল রেস্টুরেন্টে আওয়ামী পরিবারের পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় জ্যামাইকা মাজলিছুল উলামা ইউ এস এ এবং আমেরিকান মুসলিম ভয়েস এর যৌথ উদ্দ্যোগে জ্যামাইকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
এতে ওলামায়ে কেরাম গাফফার চৌধুরীকে মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তার বিচারে দাবী জানান। এতে বক্তব্য রাখেন মাওলানা রফিক আহমদ রেফায়ী,হাফজ মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম,মাওলানা আবদুল মুকিত,মুফতী মুহাম্মদ ইসমাঈল,জনাব আহমদ আবু উবায়দা,হাফেজ রফিকুল ইসলাম,মাওলানা মাহমুদুর রহমান,সমীক্ষার সহকারী সম্পাদক রশীদ আহমদ, মাওলানা রেজাউল করীম,মাওলানা বেলাল আহমদ,মাওলানা মাঈনুদ্দীন প্রমুখ।
এসময় গাফফার চৌধুরীকে সামাজিকভাবে বয়কটের ডাক দেন ওলামায়ে কেরাম।

ব্রুকলিনেও প্রতিবাদ
বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকার পার্টি হল ছেড়ে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডসের ৪৯০ নম্বর ভবনে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজনও স্থানীয়দের প্রতিবাদে পন্ড হয়ে যায়।
সেখানে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী পৌঁছালে তাকে জুতা প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা। এ সময় গাফ্ফার চৌধুরী একটি গাড়িতে বসে ছিলেন। সভাস্থলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জামায়াত সমর্থিত মুসল্লিরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পাশাপাশি কোনো পক্ষকেই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেখানে উপস্থিত হন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।
প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। ধর্মকে অসম্মান করা আমাদের কাজ নয়। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কাল বিলম্ব না করে ব্যবস্থা নিয়েছে।। সেখানে আল্লাহ ও ধর্ম নিয়ে কেউ কথা বললে তার পক্ষে আওয়ামী লীগ কেন থাকবে?’ এখন আমাদেরকে দেখতে হবে সাংবাদিক গাফফার চৌধুরী আসলে কি বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, যারা আওয়ামী লীগের নামে আলোচনা সভা ডেকে জ্যামাইকার তাজমহল আর ব্রুকলিনে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলো তারা কারা? তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অনুমতি ছাড়া এ ধরণের অনুষ্ঠান যারা আয়োজন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার হুঁশিয়ারীও দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বক্তব্যের ভূল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে:আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
জ্যামাইকার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই ম্যানহাটনে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধির বাসায় নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত স্থানীয় একটি টেলিভিশনে ৩ জুলাই ২০১৫ নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
তিনি দাবি করেন, ‘না বুঝেই আমার একাডেমিক বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ওই দিনের বক্তব্যে আমি ইসলামবিরোধী কোনো কথা বলিনি। একাডেমিক সেমিনারে আমি আমার বক্তব্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। বিএনপি-জামায়াতিরা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।’
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর দাবি, ‘যারা আমার বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন তারা পুরো বক্তব্য না শুনেই ভুল বলছেন।’
‘যারা আমার বক্তব্য না বুঝে প্রতিবাদ করে তাদের চেয়েও বড় মুসলমান আমি’- দাবি করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক সেমিনারে আবদুর গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আল্লাহ ৯৯টি নামের মধ্যে কাফের ও দেবতাদেরও আছে।’
এছাড়াও তিনি ধর্ম সম্পর্কে নানা কটুক্তি করেন যার প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ করে আসছেন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যের ভিডিও নিচে দেয়া হলো:
কেবি





