জাতিসংঘে নিযুক্ত নয়া ইরানি রাষ্ট্রদূতকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে না বলে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে। হোয়াইট হাউজ বলেছে, বিষয়টি তেহরানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব জে কারনে গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আমরা ইরান সরকারকে জানিয়েছি, (নতুন রাষ্ট্রদূত) মনোনয়ন সঠিক হয়নি।” তিনি বলেন, সিনেট এ ব্যাপারে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার সঙ্গে হোয়াইট হাউজ সহমত প্রকাশ করছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন সিনেটে অনুমোদিত এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে নবনিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ আবুতালেবিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বিলটি উত্থাপন করেন এবং ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত সিনেটে এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
কার্যকর হওয়ার জন্য এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও বিলটি পাস হতে হবে। তবে এ ব্যাপারে প্রতিনিধি পরিষদের মনোভাব এখনো জানা যায়নি।
সিনেট অভিযোগ করছে, ১৯৭৯  সালে গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে পরিচিত তেহরানস্থ তৎকালীন মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনায় আবুতালেবি জড়িত ছিলেন। ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের পর ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র মার্কিন দূতাবাস দখল করেন। আগে থেকেই তারা ধারণা করেছিলেন, দূতাবাসটি ইরানের ইসলামি সরকারের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দূতাবাস দখলের পর সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রে ইরানি ছাত্রদের সে ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়। সে ঘটনার তিন দশক পর সাম্প্রতিক সময়ে প্রমাণিত হয়েছে, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের মার্কিন দূতাবাস গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম মঙ্গলবার বলেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই জাতিসংঘে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবুতালেবিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘে নিয়োগ দেয়া কোনো রাষ্ট্রদূতকে নিজের অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায় আনার কোনো অধিকার মার্কিন সরকারের নেই। সূত্র: আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ০৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]