যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, নারীদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বাজে মন্তব্য করেছেন, তাতে তিনি দোকানেও কাজ পাবেননা। একইসঙ্গে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের জন্য রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর টেলিগ্রাফের।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমর্থনে নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনসবোরোতে এক সমাবেশে ওবামা বলেন, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ভর্ৎসনা করলেও এখনও তার হোয়াইট হাউস দখলের লড়াইয়ে তিনিই প্রার্থী থাকছেন। নারীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্যের ভিডিও টেপ প্রকাশের পর রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। অবশ্য এ নিয়েও ট্রাম্প ঝাঁজালো মন্তব্য করে বলেছেন- ‘তারা অবাধ্য।’ কংগ্রেসের হাউস স্পিকার পল রায়ানকে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি দুর্বল ও অকার্যকর নেতা।

ওবামা রিপাবলিকান নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা কীভাবে এখনও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইকে সমর্থন করছেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা এখন জনগণকে এটাই বলছেন, আমরা শক্তভাবে দ্বিমত পোষণ করছি, তাকে পছন্দ করছি না... কিন্তু আমরা এখনও তার প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। তারা এখনও ভাবছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবেন। আমরা মাথায় আসে না কীভাবে তারা তা ভাবছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর বাকি মাত্র ২৪ দিন। এ মুহূর্তে দুই দফায় নারীদের নিয়ে, এমনকি নিজের স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের পুরনো রেকর্ডিং প্রকাশ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প। নিজ দলের প্রায় ১৬০ জন নেতা তার প্রতি দেয়া সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন।

বিশ্বের হুমকি : এদিকে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে বিশ্ব বিপদে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন। বুধবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেইদ বলেন, এরই মধ্যে ট্রাম্প যা বলেছেন তার ভিত্তিতে যদি তিনি নির্বাচিত হন এবং সেগুলো পরিবর্তন না করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিপজ্জনক হবেন বলে আমি মনে করি।

বিবিসি বলছে, ‘নির্যাতনে কাজ হয়’ বলে নির্বাচনী প্রচারে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ‘পানিতে মুখ ডুবিয়ে নির্যাতনের (ওয়াটারবোর্ডিং) চেয়েও ভয়ংকর ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার’ প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন তিনি। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ওয়াটারবোর্ডিং’সহ আরও বেশকিছু নিষ্ঠুর কৌশল প্রয়োগ করতো মার্কিন বাহিনী, যা ওবামা প্রশাসন নিষিদ্ধ করে। গত জুনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ওয়াটারবোর্ডিং নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি আমি খুবই পছন্দ করি। আমার মনে হয় না এটাও যথেষ্ট।’

জাতিসংঘের হাইকমিশনার আরও বলেন, বিশেষ কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক প্রচারে তিনি হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নন বা তা তার উদ্দেশ্য নয়। তবে কোনো নির্বাচনের ফলশ্র“তিতে যদি নির্যাতন বাড়ে বা অসহায় জনগোষ্ঠী মানবাধিকার বঞ্চিত হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাকে কথা বলতে হবে।

জেড