ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতার দন্ডাদেশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তুর নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ শুক্রবার এ রায় দেন।

আদালতের রায়ে বলা হয়, দুর্নীতির দায়ে চার বছরের কারাদন্ডাদেশ পাওয়া জয়ললিতার দন্ড দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে তার আপিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় সব কাগজ ও নথি কর্ণাটক রাজ্যের হাইকোর্টে দাখিল করতে হবে।

আদালতের আদেশে আরো বলা হয়, আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) প্রধানকে ফের কারাগারে ফিরে যেতে হবে।

এ ছাড়া অবিলম্বে এ মামলার বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগার এবং সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে জয়ললিতার দল এআইএডিএমকের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জয়ললিতা যেন কর্ণাটক হাইকোর্টে তার দন্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলের মুলতুবি চেয়ে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা না করেন, এ বিষয়েও তাকে সতর্ক করেছেন আদালত।

আদালত আগামী দুই মাসের মধ্যে তার আপিলের কাগজপত্র হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বেঞ্চ বলেছে, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কাগজপত্র দাখিল করতে না পারলে, আমরা আপনাকে আর একটি দিনও সময় দেব না।’

বেঞ্চ আগামী তিন মাসের মধ্যে তার আপিল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকেও নির্দেশ দিয়েছেন।

জয়ললিতার সঙ্গেই জামিন পান দুর্নীতির মামলায় অপর তিন অপরাধী শশীকলা নটরাজন, ভিকে সুধাকরণ ও জে ইলাভরসি। জয়ললিতার হয়ে মামলা লড়েন আইনজীবী ফালি নরিম্যান।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর একটি আদালত দুর্নীতির দায়ে জয়ললিতাকে চার বছরের কারাদন্ড ও ১০০ কোটি ভারতীয় রুপি জরিমানা করেন। একইসঙ্গে জয়ললিতার ওই তিন সহযোগীকেও দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় জয়ললিতা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হন বলে অভিযোগ ছিল।

গত ৭ অক্টোবর কর্ণাটক আদালত জয়ললিতার জামিন আবেদন নাকচ করার পর ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান জয়া। তার সঙ্গেই আবেদন জানান অন্য তিন অপরাধী শশীকলা নটরাজন, ভিকে সুধাকরণ ও জে ইলাভরসি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ছিলেন জয়ললিতা।

এসএমএ