ইরানি গণিতবিদ মরিয়ম মির্জাখানি গণিত চর্চার সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ফিল্ডস মেডেল’ পেয়েছেন। বিশ্বে এই প্রথম কোনো নারী গণিতের ‘নোবেল’ হিসেবে বিবেচিত এ পুরস্কার পেলেন।
গণিতশান্ত্রে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রতি ৪ বছর পরপর এ পুরস্কারটি প্রদান করে ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব ম্যাথম্যাটিকস বা আইসিএম। আর ‘ফিল্ডস মেডেল’কে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারন্যাশনাল মেডেল ফর আউটস্ট্যান্ডিং ডিসকভারিজ ইন ম্যাথম্যাটিকস হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গণিতে নানামুখী পদ্ধতি আবিষ্কার করায় এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় মরিয়ম মির্জাখানিকে। গণিতে অসাধারণ কারিগরি দক্ষতা, সাহসী উচ্চাভিলাষ, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর অনুসন্ধিৎসাসহ গণিত নিয়ে মির্জাখানির মধ্য বিরল নানা গুণের সমন্বয় ঘটেছে।
আরো যারা পুরস্কার পেলেন
মরিয়ম মির্জাখানির পাশাপাশি আরো ৩ জনকে পদক দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন হেয়ারার, ব্রাজিলিয়ান অধ্যাপক ড. আর্টার এভিলা (২১ বছর বয়সে পিএইচডি ডিগ্রিধারী) এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানজুল বারগাজ।
কে এই মরিয়ম মির্জাখানি ?
১৯৭৭ সালে তেহরানে জন্মগ্রহণকারী মির্জাখানি ইরানের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৪ সালে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
এর আগে তিনি বিশুদ্ধ গণিতে ব্লুমেনথাল অ্যাওয়ার্ড ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব রিসার্চ এবং আমেরিকার গণিত সোসাইটির দেয়া স্যাটের পুরস্কারও অর্জন করেছেন। ২০০৮ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত শাস্ত্রের অধ্যাপক হয়ে যান। মির্জাখানি গণিতের যে সব বিষয়ে রিসার্চ করছেন তার মধ্যে হাইপারবোলিক জিওমেট্রি, টেইচমুলার থিউরি, এরগোডিক থিওরি এবং সিমপ্লেকটিক জিওমেট্রি রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব ম্যাথম্যাটিকস প্রতিষ্ঠা করেন কানাডিয়ান গণিতবিদ জন ফিল্ডস। ১৯৩৬ সালে পুরস্কারটি প্রথম প্রদান করা হয়। এরপর ১৯৫০ সাল থেকে প্রতি চার বছর পরপর নিয়মিত পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে। ৪০ বছরের বেশি বয়সী কেউ পুরস্কারটি পান না। পুরস্কার পাওয়ার পর যাতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন, সেজন্যই কম বয়সীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি।
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





