ভারতজুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। তা নিয়ে এ বার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। গোটা পরিস্থিতির জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারকেই দুষলেন তিনি। তাঁর মতে, সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অব্যবস্থার জন্যই আজ এমন পরিস্থিতি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের অব্যবস্থাপনার কড়া সমালোচনা করে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, মোদি সরকারের সার্বিক অব্যবস্থানার জন্য ভারত দীর্ঘস্থায়ী একটি অর্থনৈতিক মন্দায় রয়েছে।
জাতীয় প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, দেশে যে অর্থনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে তাতে আমরা দীর্ঘায়িত মন্দার মধ্যে আছি। তিনি ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘গভীরতর উদ্বেগের’বলে আখ্যায়িত করেন।
আজ(০১ সেপ্টেম্বর) রোববার টুইটারে তাঁর একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তাতে মনমোহন সিং বলেন, “প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এটা দীর্ঘস্থায়ী মন্দারই ইঙ্গিত। অথচ দ্রুত গতিতে উন্নতির সবরকম সম্ভাবনাই রয়েছে ভারতের। সব ক্ষেত্রে মোদী সরকারের চূড়ান্ত অব্যবস্থাই আজ মন্দা ডেকে এনেছে।”
এভাবে চললে খুব শীঘ্র বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন,“এ ভাবে চলতে পারে না। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ, প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পরামর্শ নেওয়া হোক। মনুষ্যসৃষ্ট এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজে বার করা হোক বিচার বিবেচনার মাধ্যমে।”
গাড়ি শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। তা নিয়েও নরেন্দ্র মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মোদী সরকারের ভুল নীতির জন্যই এই ব্যাপক বেকারত্ব। শুধুমাত্র গাড়ি শিল্পেই সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, যাতে সাধারণ কর্মীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
মনমোহন সিং আরও বলেন, “এই মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। গ্রামাঞ্চলে আয় কমেছে সাধারণ মানুষের। যে মূল্যবৃদ্ধির হার কমা নিয়ে বড়াই করে বেড়ায় মোদী সরকার, কৃষিজীবী মানুষকে তার চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে। দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের উপর দারিদ্র চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সম্প্রতি বাড়তি সঞ্চয় থেকে কেন্দ্রকে ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু বড় ধরনের বিপর্যয়ের সামাল দিতে যে টাকা গচ্ছিত রাখা হয়, তাতে ভাগ বসানোয় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এ দিন একই সুর ধরা পড়ে মনমোহনের গলাতেও। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলির স্বায়ত্ত শাসনের উপর আঘাত হানা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তথ্য সূত্র-জি নিউজ, আনন্দবাজার।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।
এমবি





