সিরিয়ায় আকাশে মার্কিন ও রুশ যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ এড়াতে অবশেষে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি। দুই দেশের কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক জানান, মস্কোর অনুরোধে চুক্তির শর্ত গোপন রাখা হয়েছে। তবে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ থাকবে বলে জানা গেছে।

যদিও দুই দেশ তাদের হামলার লক্ষ্যস্থল নিয়ে আলোচনা করবে না বলে কুক জানিয়েছেন।

দুই দেশের যুদ্ধবিমান ‘নিরাপদ’ দূরত্বে থাকবে বলে কুক জানিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা, তা কুক জানাননি।

গত সপ্তাহে সিরিয়ার আকাশে মার্কিন ও রুশ বিমান কাছাকাছি চলে আসায় এই চুক্তির ব্যাপারে তৎপর হয় দুই দেশ।

তিন সপ্তাহ ধরে এই চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। চুক্তিতে আসার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনাও করেছিলেন দেশ দুটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ সিরিয়ায় তাদের লক্ষ্যবস্তু কিংবা গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যাপারে নাক গলাবে না। শুধু তাদের যুদ্ধবিমানের কাছাকাছি চলে আসা ঠেকানোই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

রাশিয়া চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুরোধে আইএস ও অন্য বিদ্রোহী দলগুলোকে দমনে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

তবে রুশ বিমান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। যদিও মস্কো এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দখলকৃত লাটাকিয়া প্রদেশের জাবাল আল-আকরাদ অঞ্চলে স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে রুশ বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

কেএইচ