গত সপ্তাহে অভিযানের নামে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা দেশটির রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় অনেক মুসলিম নারীকে ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতন করেছে। গত চার বছরের মধ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় এই দমন অভিযানের সময় দেশটির উত্তর-পশ্চিমঞ্চলীয় একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রাখাই রাজ্যের প্রত্যন্ত উ শে কি গ্রামের আটজন নারী তাদের প্রতি ভয়াবহ এই নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেছেন রয়টার্সের কাছে। সেনাবাহিনী গ্রামটিতে বাড়ি ঘেরাও করে লুটপাট ও ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
রয়টার্স সরাসরি তিনজন ও টেলিফোনে পাঁচজন নারীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। একই সাথে তারা মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় কর্তাব্যক্তিদেরও সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তবে ঠিক কতজন নারী সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন তা জানা যায়নি।
গত ৯ অক্টোবর থেকে রাখাই রাজ্যের মংডু এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। অজ্ঞাত হামলাকারীরা মিয়ানমারের সীমান্ত পুলিশের তিনটি ঘাঁটিতে হামলা ও লুটপাট করার পর এই অভিযান শুরু করে।
এ ঘটনার সাথে একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী জড়িত, যাদের সাথে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করে মিয়ানমার সরকার।
এরপর সন্দেহভাজন মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলা হলেও এতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়ে। এক দিনেই সেনাবাহিনীর হাতে নিহত ২৬ রোহিঙ্গা।
সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এক স্থানীয় রোহিঙ্গা নারী (৪০) রয়টার্সকে বলেন, চার জন্য সৈন্য তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তার মেয়েকে গুরুতর আঘাত করে ঘর থেকে গয়না ও টাকা লুট করে।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে একটি ঘরে বন্দী করে আমার হিজাব ও পোশাক খুলে নেয়। এরপর অন্যদের সহায়তায় এক এক করে প্রত্যেকে ধর্ষণ করে আমাকে।’
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট তিন কিউয়ের মুখপাত্র জ তে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রামটিতে বিদ্রোহীরা লুকিয়ে আছে তাই অভিযান চালানো হয়েছে, ধর্ষণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে এক ই-মেইল বার্তায় এ ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তারা ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি।
এমবি





