তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলের কাওসিউং শহরে পরপর কয়েকটি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭০ জন।আর মৃতদের মধ্যে ৪ অগ্নিনির্বাপণ কর্মীও আছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ধারাবাহিক কয়েকটি বিস্ফোরণের বিষয়ে জানায়ওই দেশের জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ।
তবে কি কারণে গ্যাস নিঃসরণ হয়েছিল তা পরিষ্কার না হলেও ফাটা পাইপলাইনের কারণে এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ।
দেশটির গণমাধ্যমে যে ছবিগুলো এসেছে সেগুলোতে বিস্ফোরণ থেকে তৈরি হওয়া ভয়াবহ আগুন, ধ্বংস হওয়া গাড়ি ও রাস্তা ও ভবনের বিধ্বস্ত চিত্র উঠে এসেছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী চেন গুয়ান-ইউয়ান বিবিসিকে বলেন, ‘আমি রাস্তার উপর অনেক বিধ্বস্ত গাড়ি ও মোটরসাইকেল দেখেছি। চিকিৎসকরা অনেকের দেহ পরীক্ষা করে দেখছিলেন তারা বেঁচে আছেন কিনা। বিস্ফোরণের কারণে এতো বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে যে সেগুলোকে গুহার মতো মনে হচ্ছে।’
দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিস্ফোরণ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন চেন।
ঘটনাস্থলের আশেপাশের এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তারা।
আগুন নেভানোর চেষ্টা সত্তেও বিস্ফোরণের ৫ ঘন্টা পরেও স্থানীয় সময় ভোর ৫ টারদিকে দুইটি রাস্তার আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা।
বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত না হওয়া গেলেও বেশকিছু পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি সুয়ারেজ ব্যবস্থার পাইপলাইন গ্যাস সরবরাহে ব্যবহার করছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে বলে ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন কাওসিউংয়ের মেয়র চেন চু। ওই এলাকার সকলকে উদ্ধারকারী দলের নির্দেশনা মানতে ও উদ্ধার দেখতে ভিড় জমিয়ে দাঁড়িয়ে না থাকার পরামর্শও দিয়েছেন চেন চু।
সূত্র: বিবিসি
ঢাকা, একে, ১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর





