মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি'র সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে মধ্যরাত (শুক্রবার) থেকে।
বিবিসি'র খবরে বলা হয়, কিছু কিছু জ্বালানির দাম ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর বিদ্যুতের দাম করা হয়েছে দ্বিগুন।
দেশটির তেল মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে দেয়া বিবৃতিতে জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালনি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং বাজেট ঘাটতি মেটানোর অংশ হিসেবে দাম বাড়িয়েছে মিশরের সরকার।
মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ৯২ অকটেন গ্যাসোলিন প্রতি লিটারের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ দশমিক ৬০ মিসরীয় পাউন্ড। আগে যার মূল্য ছিলো ১ দশমিক ৮৫ মিসরীয় পাউন্ড। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ৮০ অকটেন গ্যাসোলিনের লিটার প্রতি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মিসরীয় পাউন্ড। যেটা বেড়েছে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত।
ডিজেলের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। প্রতি লিটারে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৮০ মিসরীয় পাউন্ড। এছাড়া যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ১’শ ৭৫ শতাংশ। প্রতি ঘনমিটারে গ্রাহকদের বাড়তি গুণতে হবে ১ দশমিক ১০ মিসরীয় পাউন্ড।
মিসরের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সাদা আল-বালাদে তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সরবরাহ মন্ত্রী খালেদ হানাফি।
মিসরের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি এরইমধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছেন। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সামলাতে অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির জ্বালানি খাতের ভর্তুকি সংস্কারে কাজে আসবে।
তিন বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে মিসরের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কথা বলে সিসি সরকার বিভিন্ন খাতে এরই মধ্যে ভর্তুকি কমিয়েছে। প্রথাগতভাবে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেয়ার ফলে রাষ্ট্রের এক চতুর্থাংশ খরচ বৃদ্ধি পায় বলে মনে করছে সরকার।
বিশেষজ্ঞদের আশংকা, মিশরে জ্বালানী ও বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও পরিবহন খরচ অনেকখানি বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে চাপে পড়তে পারেন দেশের সাধারণ মানুষ।
গত ৫ বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিকভাবে এমনিতেই বেকায়দায় থাকা দেশটির সাধারণ মানুষের ওপর এই নতুন চাপ মরার ওপর খড়ার ঘা হয়ে দেখা দিতে পারে। আর এর ফলে যে জনরোষের সৃষ্টি হবে, তা কিভাবে কাটিয়ে উঠবে একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সিসি সরকার সেটা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান।
উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে মিশরের বাজেট ঘাটতি ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৪ শতাংশ।
ঢাকা, ০৫ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই// কেবি





