ইসরাইলে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে অধিকাংশই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরোধীতা করেছেন। ট্রাম্পের ঘোষণা পর নিউইয়র্ক টাইমসের করা একটি প্রতিবেদনে ১১ জন সাবেক রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ৯ জনই এর বিপক্ষে মত দেন।
তাদের মতে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মারাত্মক কিছু ভুল রয়েছে যেটা ভয়ানক সহিংসতার জন্ম দিতে পারে।
তারা বলেন যদি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক থাকে তাহলে মনে করতে হবে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির জন্য এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটা হারানো সুযোগ ছিল।
ইসরাইলের দিক থেকে সর্বোচ্চ স্বাগত পাওয়া ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশেই সমালোচনার ঝড় তোলেনি। বরং বিশ্ব জুড়ে নিন্দার ঝড় বইয়ে দিয়েছে।
এটা যেমন সমালোচিত হয়েছে জাতিসংঘে তেমনি সমালোচিত হয়েছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে। এটিকে সহিংসতার অন্যতম অশনি সংকেত বলে মনে করছেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা।
'কূটনৈতিকভাবে এবং মধ্যপ্রচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের এই ঘোষণায় অনেক নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেটা থেকে কোনভাবেই ভালো কিছু আশা করা যাবে না' বললেন ডেনিয়েল কার্তজার। যিনি ইসরাইলে ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের অধীনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিকভাবে আবারও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে শুধুমাত্র ইসরাইল সমর্থন ছাড়া। বিশ্ব শান্তি আনয়নে একজন বাহক হিসেবে আমেরিকা নিজেরাই নিজেদেরকে সে জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়েছে'
বিশ্ব নেতারা এই ঘোষণায় নিন্দার পাশাপাশি ভয়ানক সহিংসতার কথাও প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে হামাস তাদের নতুন ইন্তিফাদা বা প্রতিরোধ ঘোষণা করেছে।
ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৫-২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা রিচার্ড জন বলেন, ' এটা নিঃসন্দেহে একটা ভয়ানক ঘোষণা যেটা ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনে অনেক মানুষের জীবন কেড়ে নিবে। বিশেষ করে ইসরাইল এটাকে ইস্যু করে তাদের পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করবে'
অধিকাংশের বিরোধীতার পাশাপাশি কিছু মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে সর্বোচ্চ সমর্থন জানিয়েছে। তবে তাদের মতে অবশ্যই এটি একটি শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
২০১১-২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা ডেনিয়েল শাপিরো নিউ ইয়র্ক টাইমসে দেওয়া সাক্ষাতাকারে বলেন , 'জেরুজালেম ইসরাইলের রাজধানী এবং এটি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি যথাযথ স্বীকৃতি'
উল্লেখ্য জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি দেওয়ার পর নতুন 'ইন্তিফাদ' বা প্রতিরোদ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় হামাস। যার পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন। এতে এখন পর্যন্ত দুই জন নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছে। সূত্র: দ্যা টাইম অব ইসরাইল
জেড





