ভারতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ হাজার ৩০৪ জনের শরীরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করা হয়েছে।
ফলে দেশটিতে মোট কোভিড- ১৯ আক্রান্ত ২.১৬ লক্ষ জন মানুষ, এখনও পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ০৭৫ জনের, খবর এনডিটিভি।
আজ (০৪ জুন) বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে মোট ২,১৬,৯১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন ওই মারণ রোগে।
এদিকে বুধবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু' জানিয়েছে যে করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ফের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ড্রাগটির ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করা যাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসিস বলেন, “করোনা ভাইরাসের মৃত্যু নিয়ে যে তথ্য আমাদের কাছে এসেছে তার ভিত্তিতে আমাদের এক্সিকিউটিভ গ্রুপ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন চালু করার কথা জানিয়েছে।”
তবে দেশে করোনাভাইরাস থেকে পুনরুদ্ধারের হারও যথেষ্ট সন্তোষজনক। ওই মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন বহু রোগী।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এই পুনরুদ্ধারের হার বেড়ে ৪৭.৯৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এদেশে মোট ১,০৪,১০৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন।
মহারাষ্ট্রই হল সেই রাজ্য যেখানে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগী রয়েছেন। বুধবার ওই রাজ্যে একদিনের মধ্যে সর্বাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে মারা গেছেন ১২২ জন। এর ফলে ওই রাজ্যে মোট করোনা রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ২,৫৮৭ জন। উদ্ধব ঠাকরের রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোভিড- ১৯ পজিটিভের মোট সংখ্যা ৭৪,৮৬০ এ এসে দাঁড়িয়েছে। বুধবার মহারাষ্ট্রে নতুন করে আরও ২,৫৬০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু মুম্বইতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১,২৭৬ জন।
মহারাষ্ট্রের পরেই করোনা সংক্রমণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু, ওই রাজ্যে এই নিয়ে পরপর ৪ দিন দৈনিক ১ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ রোগটি। দক্ষিণের রাজ্যটিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার পেরিয়ে গেছে।
এদিকে দেশের রাজধানী দিল্লিও ভুগছে করোনা আতঙ্কে। সেখানে মোট ২৩,৬৪৫ জন ওই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী এখন দিল্লিতেই।
অসমেও দ্রুত হারে বাড়ছে সংক্রমণ। গত একদিনের মধ্যে সেখানে নতুন করে ২৬৯ জন নতুন করোনা রোগী ধরা পড়েছে। ওই রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত ১,৮৩০ জন। রাজ্য সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, অসমের ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর শরীরে করোনা সংক্রমণের কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না, যা আরও আশঙ্কার।
এমবি





