আঠার শতকের শেষের দিকে ব্রিটিশরা মালয়েশিয়া অঞ্চলে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এসময় একে বলা হতো ব্রিটিশ মালয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মালয়েশিয়া দখল করে নেয়। ১৯৪৫ সালের পর জাপানিরা চলে যায়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397484984.jpg[/img]
১৯৪৮ সালে মালয় উপদ্বীপে অবস্থিত ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চলসমূহের সমন্বয়ে গঠিত হয় মালয় ফেডারেশন। এ মালয় ফেডারেশন ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৬৩ সালে  সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ উপনিবেশে যোগদেয় আর পূর্ব মালয়েশিয়ান রাজ্য ফেডারেশনে যুক্ত হয়। ১৯৬৩ সালেই মালয়েশিয়া স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
ভৌগলিক দিক থেকে মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। ১৩টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই এবং ফিলিপাইনের সীমান্ত রয়েছে। মালয়েশিয়া দু'টি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত। একটি মালয়েশিয়া উপদ্বীপ অপরটি বর্নিও মালয়েশিয়া। দক্ষিণ চীন সাগর দ্বারা বিভক্ত মালয়েশিয়ার প্রধান অঞ্চল  দু'টি।
দেশটি সমুদ্র উপকূলীয় সমতল ভূমি থেকে গভীর ঘন অরণ্যবিশিষ্ট পর্বতমালায় সজ্জিত। মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বর্নিও দ্বীপে অবস্থিত কিনাবালু। এর উচ্চতা ৪,০৯৫.২ মিটার। দেশটি বিষুবীয় অঞ্চলে হওয়ায় এর জলবায়ু গ্রীষ্ম প্রধান। শীতকালে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে এবং গ্রীষ্মকালে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।
মালয়েশিয়ার জহর রাজ্যের তানযুং পিয়াই এশিয়া মহাদেশের সর্বদক্ষিণ প্রান্ত। মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার মাঝে অবস্থিত মালাক্কা প্রণালি বিশ্বের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397485053.jpg[/img]
রাজধানী শহর কুয়ালালামপুরের চাপ কমানোর জন্য পুত্রজায়াকে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সংসদ ভবন, বাণিজ্যিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বেশির ভাগই কুয়ালালামপুরে অবস্থিত। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর গুলো হল জর্জ টাউন, ইপো, জহর বারু, কুচিং, কোতা কিনাবালু মিরি, মালাক্কা প্রর্ভৃতি।
মালয়েশিয়া বহু বর্ণগোষ্ঠীর এক চমৎকার আবাসস্থল। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠি (৫০.৪%) মালয় এবং মালয়রা অন্যান্যদের তুলনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। সাবাহ এবং সারওয়াক রাজ্যের ভূমিপুত্র (Son of the Soil)জনসংখ্যার মোট ১১ শতাংশ। মূলত যারা মালয় সংস্কৃতি এবং প্রথা পালন করে তারা মুসলিম।
সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো সম্প্রদায়ের মুসলিম জনগোষ্ঠী মালয় হিসাবে পরিগণিত এবং তারা মালয়দের সমান সুবিধা ভোগ করে। ২৩.৭ শতাংশ জনগণ চীনা বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান। অন্যদিকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান রয়েছে ৭.১%। অন্যান্যদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া, ইউরোপ, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশের জনগণ ৭.৮ শতাংশ। মালয়েশিয়ার মোট জনসংখ্যা ২,৭৭,৩০,০০০ এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি জনগণ মালয় উপদ্বীপে বসবাস করে আর বাকিরা কম বসতিপূর্ণ পূর্ব মালয়েশিয়ায় বসবাস করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397485113.jpg[/img]
প্রাকৃতিক সম্পদে মালয়েশিয়া ব্যাপক সমৃদ্ধ। বিশেষ করে কৃষি, বন এবং খনিজ সম্পদের আকর দেশটি। প্রাকৃতিক রাবার ও পাম ওয়েল রপ্তানিকারক দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কোকো পাউডার, মরিচ, আনারস এবং তামাক মালয়েশিয়ার কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দেশটির পাম ওয়েলের ভূমিকা অপরিসীম। বন সম্পদ দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানেও প্রায় ঊনষাট (৫৯) শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল।
মালয়েশিয়া একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বিশিষ্ট একটি দেশ। রাষ্ট্রপ্রধানকে ‘ইয়াং দি পেরতুয়ান আগং’ বলা হয়। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার দেশটির দীর্ঘ মেয়াদি (১৯৮১-২০০৩) প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। মূলত তার নেতৃত্বেই মালয়েশিয়া বর্তমান বিশ্বে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

রাজধানী              : কুয়ালালামপুর
সরকার ব্যবস্থা       : কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক রাজতন্ত্র এবং সংসদীয় গণতন্ত্র
দাপ্তরিক ভাষা        : মালয়
প্রধানমন্ত্রী             : নাজিব তুন রাজ্জাক
আয়তন               : ৩,২৯,৮৪৭ বর্গকিলোমিটার
জনসংখ্যা            : ২,৭৭,৩০,০০০
জনসংখ্যার ঘনত্ব   : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮৪ জন
জিডিপি              : ৩৮৮.৩১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০০৮)
জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার  : ৫.৫%
মুদ্রা                      : মালয়েশিয়ান রিঙ্গিট
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার  : ১.৭২৩%
জন্মহার                 : প্রতি হাজারে ২২.৪৪ জন
মৃত্যুহার                : প্রতি হাজারে ৫.০২ জন
গড় আয়ু                : ৭৩.২৯ বছর
সাক্ষরতার হার        : ৮৮.৭%
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর