মোদী ম্যাজিক কী মাত্র তিন মাসের ব্যবধানেই ম্লান হয়ে গেল? তা না হলে উপ-নির্বাচনগুলোতে বিজেপি ধরাশায়ী হবে কেন? সোমবার বিহারের ১০টি আসনের উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস-নীতীশ কুমার ও লালুপ্রসাদ যাদবের দলের জোট পেয়েছে ৬টি; অন্যদিকে বিজেপি জোট পেয়েছে ৪টি আসন৷
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অন্য তিন রাজ্যের উপ-নির্বাচনেও খুব ভালো ফল হয়নি শাসক বিজেপি জোটের৷ সকালে সেটা আন্দাজ করতে পেরেই বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেন, এই ফলাফলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও যোগাযোগ নেই৷ আর ফল ঘোষণার পরে, বিহারে হারের দায়িত্ব নিলেন সুশীল মোদী৷ আর বিজেপি মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেনের সাফাই, 'আমরা বিহারের নেতারা ভালো ফল না হওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছি৷ এর সঙ্গে মোদীজির কোনও সম্পর্ক নেই৷ এখানে দল লড়েছিল ছোট মোদীর নেতৃত্বে৷'
অথচ, দলের সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে অমিত শাহ বিজেপি নেতা ও কর্মীদের বলেছিলেন, তার কাছে প্রতিটি উপনির্বাচন হলো সমান গুরুত্বপূর্ণ৷ কোনও উপনির্বাচনেও হারা চলবে না৷ সেখানে সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে বিহার, কর্নাটক দু'জায়গাতেই জিতে গেল কংগ্রেস বা কংগ্রেস জোট৷ গত মাসে উত্তরাখণ্ডের তিনটি আসনের উপনির্বাচনেও জিতেছিল সোনিয়া-রাহুলের দলই৷ প্রশ্ন উঠছে, তিন মাসের মধ্যেই কি তা হলে মোদী ম্যাজিক ম্লান হতে শুরু করলো? তা অবশ্য তারা মানছে না৷ বিজেপির আরেক মুখপাত্র সম্বিত পাত্রর যুক্তি, 'এগুলো ছিল বিধানসভার উপনির্বাচন৷ তেমন গুরুত্ব নেই৷'
কিন্ত্ত সত্যিই কি গুরুত্ব ছিল না? বিশেষত আগামী ২ মাসের মধ্যেই যেখানে ৪ রাজ্যের বিধানসভা ভোট? সেপ্টেম্বরে উত্তর প্রদেশের ১০টি আসনসহ বিভিন্ন রাজ্যের মোট ৩৩টি আসনে উপনির্বাচন। তাহলে মোদী-অমিতকে আড়াল করার এত চেষ্টা কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তারা৷
লোকসভা নির্বাচনের সময় নরেন্দ্র মোদী জাতপাতের এই বিভাজনটাকে ভেঙে দিতে পেরেছিলেন৷ ৪০টির মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৩১টি আসন৷ কিন্তু তার মাস তিনেকের মধ্যে লালু-নীতীশ-কংগ্রেস এক হয়ে দেখিয়ে দিলেন, রাজনীতিতে তারা একটা নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পেরেছেন৷ এই সমীকরণ যদি বিহারের বাইরেও ছড়িয়ে যায়, তা হলে কিন্ত্ত সব রাজ্যেই বিজেপি-র লড়াইটা কঠিন হয়ে
বিহারের বাইরেও আশানুরূপ ফল হয়নি বিজেপির৷ কর্নাটকে ৩টি আসনের মধ্যে ২টি পেয়েছে কংগ্রেস, অন্যটি জুটেছে বিজেপির৷
রাজনৈতিক মহল বলছে, বিধানসভার উপনির্বাচন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মঞ্চ হতে পারে না৷ কিন্ত্ত তা সত্ত্বেও কংগ্রেস নেতারা উৎসাহিত৷ কারণ, লোকসভার ফলাফল দেখে মনে করা হয়েছিল, দেশ থেকে কংগ্রেস মুছে যাবে৷ সেখানে বিহারের মতো রাজ্যে কংগ্রেস জিতেছে, কর্নাটকে বল্লারির মতো কঠিন আসনে তারা জিতে আসতে পেরেছে, মধ্যপ্রদেশেও একটি আসন বিজেপির কাছ থেকে তারা ছিনিয়ে আনতে পেরেছে৷ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর পি এন সিং বলেছেন, 'মোদীজি ও বিজেপির ইচ্ছা পূর্ণ হবে না৷ কংগ্রেস-মুক্ত নয়, ভারতের মানুষ বরং নিজেদেরকে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন৷' আর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেছেন, 'কর্নাটক, পাঞ্জাব, বিহারে মানুষ বিজেপিকে ছেড়ে আবার কংগ্রেসের দিকে ফিরছে৷'
লালু ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে মুলায়ম ও মায়াবতীকে এক হতে অনুরোধ করেছিলেন৷ কিন্ত্ত মুলায়ম বা মায়াবতী কেউই এই পরামর্শে কান দেননি৷ এরপর কি মুলায়ম এবং মায়াবতীও নতুন করে ভাববেন? আর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে সমাজবাদী পার্টিকেও জোটে আনার চেষ্টা করবে কংগ্রেস?
এই জয় নিঃসন্দেহে মনোবল বাড়াবে আরজেডি, জেডিইউ-এর৷ কংগ্রেসের তো বটেই৷ লালু লোকসভার সময় থেকেই বলেছেন, 'বিজেপির মতো একটা সাম্প্রদায়িক দলকে যেভাবে হোক আটকাবই৷' সে কথা তিনি রেখেছেন৷ আপাতত, রাউন্ড ওয়ান জিতে তাই খানিক এগিয়েই রইল পুরোনো দুই সহকর্মীর পুনঃনবীকৃত বন্ধুতা৷ পাশাপাশি কংগ্রেসের হারানো মনোবলেও একটা রুপোলি রেখা। সূত্র: এই সময়
ঢাকা, ২৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





