২০১৮ সালের প্রথম দুই মাসে সিরিয়ায় এক হাজার ১৪৫টি শিশু হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৩৪২। আহতের সংখ্যা ৮০৩। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রধান জুলিয়েট তৌমা।
সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় জাতিসংঘের অস্ত্রবিরতির মধ্যেই আসাদ বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলার মুখে শিশুদের হতাহতের এ পরিসংখ্যান সামনে এলো। এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাশিয়ার সেনাবাহিনী আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের পূর্ব ঘৌটা ত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাশিয়া চায় বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করুক। বিনিময়ে তাদের নিরাপদে পূর্ব ঘৌটা ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ে পূর্ব ঘৌটা থেকে নিরাপদে অন্য স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চায়। তবে বিদ্রোহীরা পূর্ব ঘৌটা ছেড়ে কোথায় যাবে সে বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
আত্মসমর্পণের বদলে বিদ্রোহীদের নিরাপদে সরে যাওয়ায় সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ার রিকনসিলেশন সেন্টার পরিবার ও ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ পূর্ব ঘৌটা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া বিদ্রোহীদের দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে এবং যাত্রা পথে নিরাপত্তাও দেওয়া হবে।’
পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহীদের প্রধান দল ফাইলাক আল-রহমানের মুখপাত্র ওয়ায়েল আওয়ান বলেছেন, ‘রাশিয়া সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চায় এবং বলপূর্বক পূর্ব ঘৌটার মানুষকে উদ্বাস্তু করে দিতে চায়। এটি অপরাধ।’
উল্লেখ্য, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকার প্রায় এক তৃতীয়াংশই নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে পেরেছে। পূর্ব ঘৌটা বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি। এলাকাটির দখল নেওয়ার জন্য রাশিয়া ও আসাদ বাহিনী লাগাতার বিমান হামলা করছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধু গত সপ্তাহেই রাশিয়া ও আসাদ বাহিনীর মুহুর্মুহু হামলায় পূর্ব ঘৌটায় অন্তত ১০০ জন মারা গেছে। আর অন্তত ৪ লাখ মানুষ ওই এলাকায় আটকে আছে। তাদের কাছে খাবার ও ওষুধ অপ্রতুল। সূত্র: সিএনএন, মিডল ইস্ট মনিটর।
এসএম





