ভারতের প্রধানমন্ত্র্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে বহুল আলোচিত তিস্তার পানিবন্টন সংক্রান্ত ঝুলে থাকা চুক্তির বিষয়ে সকল প্রশ্নের একই জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আজ (শুক্রবার) মন্ত্রনালয়ের আনক্লোজ কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর চলাকালে এমন ঘটনা ঘটে যা উপস্থিত সাংবাদিকের মধ্যে কৌতুকের জন্ম দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিস্তার পানি বন্টন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঝুলে থাকার চুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীকে যে প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করছিলেন তার জবাবে তিনি বার বার বলছিলেন, একটু ধৈর্য ধরেন, ধৈর্য ধরতে হবে।

এর আগে ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তার পানি বন্টনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির ড্রাফট পর্যন্ত হলেও অদ্যবদী এ ব্যাপারে আর কোন অগ্রগতি হলো না, আদৌ কোন অগ্রগতি এ বিষয়ে হচ্ছে কীনা-সাংবাদিকদের এমন নানা প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক কিছু হচ্ছে, চোখের আড়ালে হচ্ছে, ডিপ্লমেসি কখনো পাবলিককি হয় না।

তিনি বলেন, আলোচনা চলছে, আপনাদের চোখের আড়ালে, আলোচনাটি চলতে থাকুক। মমতা ব্যানার্জিও আজকে ঢাকায় আসছেন, আলোচনার সাফল্য যখন আসবে তখন জানবেন।

নরেন্দ্র মোদির এই সফরে বাংলাদেশের সত্যিকারের অর্জন কি-সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের তথা অত্র অঞ্চলের 'কানিকটিভিটিই' এই সফরের মুখ্য বিষয়। এছাড়া বিগত ৬৮ বছর পরে ছিটমহলবাসী তাদের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন যা একটি বড় অর্জন।

নানা কৌশলে ভারত বার বার তিস্তার পানি বন্টন সংক্রান্ত চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে অথচ ভারতের স্বার্থের অনুকূলে সব কিছুই কোন না কোন উপায়ে আদায় করে নিচ্ছে-এটা বাংলাদেশের বড় ধরনের কুটনৈতিক ব্যর্থতা কীনা- জানতে চাইলে ক্ষোভের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, এটা আপনার মূল্যায়ন হতে পারে, কিন্তু অনেক কিছুই তো হচ্ছে।

মোদির দুই দিনের ঢাকা সফরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থল সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হবে-এমন তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, যা হচ্ছে সেদিকে নজর দিন, যে চুক্তি হচ্ছে না তা নিয়ে এতো হতাশার কিছু নেই।

মাহমুদ আলী বলেন, কোন কিছু রাতারাতি হয়ে যায় না। এজন্য বহুদিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়। আর তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বলার মতো কোন অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে।

তিনি বলেন, মোদির সফরে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি বা প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে-দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, আভ্যন্তরীন নৌ প্রটোকল, উপকূলীয় নৌ চলাচল চুক্তি, পণ্যের মান স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সহযোগিতা চুক্তি।

এছাড়া, উভয় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা; মানব পাচার প্রতিরোধ; সমুদ্রভিত্তিক ব্লু –ইকোনমির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

মোদির ঢাকা সফরের সময়ে বেশ কয়েকটি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে-কলকাতা-আগরতলা বাস সার্ভিস ও ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসের সূচনা। এছাড়া খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন এবং কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বহাল, শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রভবন, সারদা পুলিশ একাডেমিতে একটি মৈত্রী ভবন, ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মান প্রকল্প, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন এর একটি পরীক্ষাগার এবং একটি বর্ডার হাট উদ্বোধন।

এছাড়া নরেন্দ্র মোদি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিবেন এবং ৭ জুন সন্ধ্যায় তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র সচিব মো: শহিদুল ইসলাম।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের ট্রেড সংক্রান্ত চুক্তিতে বেশ কিছু নতুন বিষয় থাকবে তার মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভূটানসহ অত্র অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

কেবি