ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে এক সেনাঘাঁটিতে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা ধরে ভারতীয় সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ চলে হামলাকারী ৪ জনের। কিন্তু ৬ ঘন্টা যুদ্ধ করে হামলাকারীরা নিহত হওয়ার আগেই সেরে নেন তাদের আসল কাজ। এরই মধ্যে হামলায় নিহন হন ১৭ ভারতীয় সেনা, আহত হন আরো অন্তত ৩০ জন সৈন্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই হামলাকে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা বলা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে, চলছে নানামুখী ব্যাখ্যা। তবে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
রাজনাথ সিং এক টুইটবার্তায় বলেছেন, আক্রমণকারীরা ছিল উচ্চস্তরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তাদের সাথে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ছিল।

রাজনাথ সিং টুইটার বার্তায় আরো বলেছেন, আক্রমণকারীরা যে উচ্চ প্রশিক্ষিত ছিল এবং তাদের সাথে বিশেষ ধরণের যন্ত্রপাতি ছিল তার সুনির্দিষ্ট আভাস পাওয়া গেছে।
তিনি ওই বার্তায় পাকিস্তানকে 'একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র' বলে আখ্যায়িত করেন। তবে পাকিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র বিবিসির কাছে এ ঘটনায় 'তাদের জড়িত থাকার ভারতীয় দাবি' সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ভোর পাঁচটার দিকে ওই আক্রমণ চালানো হয়। সে সময় আক্রান্ত সৈন্যরা তাঁবুতে ঘুমাচ্ছিল এবং গ্রেনেড আক্রমণে তাদের তাঁবুতে আগুন ধরে গেলে ১২ সেনাসদস্য নিহত হয়।

এর পর ভারতীয় সৈন্যদের সাথে চলতে থাকে দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘন্টার সম্মুখ যুদ্ধ। ভারতীয় সৈন্যদের সাথে ৬ ঘন্টার সম্মুখ যুদ্ধে আক্রমণকারীরা সবাই নিহত হওয়ার আগেই নিহন হন ১৭ ভারতীয় সেনা সদস্য, আহত হন আরো অন্তত ৩০ জন সৈন্য।
উল্লেখ্য, ভারত-শাসিত কাশ্মীরের জনগনের কাছে জনপ্রিয় তরুণ কমান্ডার বুরহান ওয়ানিকে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করে হত্যার পর থেকেই সেখানে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা।

ওই বিক্ষোভ ও সহিংসতা ঠেকাতে কাস্মীরজুড়ে জারি করা কারফিউ। পুলিশ আর আধা-সামরিক বাহিনীগুলি ব্যাপকহারে ব্যবহার করেছিল ছররা গুলি। ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৬ জনের বেশি মারা গেছেন।

কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে সব থেকে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ছররা গুলিতে। আদালতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে তারা ১১ অাগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ শুরুর ৩৪ তম দিন পর্যন্ত তিন হাজার ছররা গুলির কার্তুজ ছুঁড়েছে, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তেরো লক্ষ ছররা ছোঁড়া হয়েছে।
ওই একই সময়ে সাড়ে আট হাজার কাঁদানে গ্যাসও ছোঁড়া হয়েছে। এভাবেই ভারত দমন করে আসছিলো কস্মীরী বিক্ষোভকারীদের। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন কস্মীরকে কঠোর হস্তে দমনের কারণেই সেনাঘাঁটিতে এ ধরনের হামলা হতে পারে।
এসএম/কেবি





