সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোট নিয়ে বিরাজমান ধোঁয়াশার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান পরিস্কার করলো পাকিস্তান।

মুসলিম বিশ্বের একমাত্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পারমানবিক শক্তিধর দেশটি সৌদি জোটে নিজের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘোষণা দেয়ার মাধ্যমে পরিস্কার করলো ধোঁয়াশা। পাকিস্তানের প্রভাবশালী “ডন” পত্রিকার এক খবরে এমনটি দাবি করা হয়েছে।

তবে, এই সামরিক জোট কিভাবে কাজ করবে সেই বিষয়টি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পরিস্কার করার পরই পাকিস্তান এই জোটে নিজের ভূমিকার জানান দেবে বলেও জানানো হয় দেশটির পক্ষ থেকে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই জোটের বিভিন্ন কার্যক্রমে কিভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর ২০১৫) সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে ৩৪টি মুসলিম দেশ নিয়ে জোট গঠণের কথা জানায় সৌদি আরব। সেই জোটে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নামও বলা হয় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে। তবে জোটে ইরানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশের নাম না থাকায় এ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠে।

পরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের গণমাধ্যমকে জানান, জোটের অন্তর্ভূক্ত সদস্য দেশগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে জোটের হয়ে কে কতটা ভূমিকা রাখবে সে ব্যাপারে।

এই জোট নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সেনা ও কারিগরি সহযোগিতা এবং চরমপন্থিদের মোকাবেলায় বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদদের কাজে লাগানোর মতো বিষয় নিয়ে কাজ করবে জোট।

ডনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন এই জোটে পাকিস্তানের অংশ নেয়ার খবরে প্রথমে দেশটির খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারাই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তবে, পরবর্তীতে এটা পরিস্কার হয় যে, এই জোটের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে সৌদি আরবকে আগেই গোপনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত ছিল না।

তবে, জোটে অংশ নেয়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে কে আশ্বস্ত করেছিল তা নিয়ে এখনও রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এদিকে, চলতি বছরের অক্টোবরে দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয় সন্ত্রাস দমন সৌদি বিশেষ বাহিনীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রদানের মধ্য দিয়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্ত্রাস মোকাবেলায় করণীয় বিষয়ে এক বিশেষ আলোচনার পরে পাকিস্তানের আর্মি স্টাফ প্রধান জেনারেল রাহিল শারিফ সৌদি আরব সফর করেন।

কোন ধরনের পূর্ব অবহিত ছাড়াই সৌদি আরব তার নেতৃত্বাধীন জোটে পাকিস্তানের নাম অন্তর্ভূক্ত করায় যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠার একটি প্রচেষ্টা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতিতে রয়েছে বলেও ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়।

পূর্ব অবহিত করা ছাড়াই কিভাবে পাকিস্তানের নাম জোটে আসলো-এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন না তুলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস-বিরোধী জোটকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে বিব্রতকর পরিস্থিতি কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও  প্রতিবেদনে বলা হয়।

কেবি