ইরানের জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করার পরিণামে ভয়াবহ যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল-মাহদি।

শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় জেনারেল সোলাইমানি এবং হাশদ আশ-শাবির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল-মুহাদিস নিহত হয়েছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে করেন। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, ইরাকি সামরিক কমান্ডারকে সরকারি ঘাঁটিতে হত্যা করা দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন ছাড়া আর কিছু নয়। এই আগ্রাসন ইরাকের রাষ্ট্র, সরকার এবং জনগণের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে।

তিনি জেনারেল সোলাইমানি এবং আল-মুহানদিসকে পশ্চিমা মদদপুষ্ট তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশের (আইএস) বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনারা দেশটিতে অবস্থানের শর্ত লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে মার্কিন সেনাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য ইরাকি সংসদের বৈঠকে বসার আহ্বান করেন।

আগামীকাল (শনিবার) ইরাকি সংসদ এই বিষয় বিবেচনার জন্য বৈঠক বসবে বলে জানান।

এদিকে, ইরাকের প্রভাবশালী আলেম এবং রাজনৈতিক নেতা মুক্তাদা সাদর এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর তার বাহিনীকে প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে বলেছেন। মার্কিন সম্ভাব্য আরও আগ্রাসন মোকাবেলায় তার বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।

জেনারেল সোলাইমানি এবং আল-মুহানদিসের পূর্ব-পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানান তিনি।

মুক্তাদা সাদর বলেন, ইরাকে বিরাজমান মার্কিন বিরোধী জনমত দমন করার লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। জেনারেল সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শোক এবং সমবেদনাও জানিয়েছেন।

এমবি