ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মেম্বার সায়মন ডানসাক বলেছেন, বাংলাদেশ এমন এক রাষ্ট্র যেখানে নেই কোনো ফ্রিডম, নেই কোনো গণতন্ত্র, জনসাধারণের জন্য নেই কোনো চয়েস। এমন পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দেয়াই চলমান সংঘাত নিরসনের একমাত্র উপায়।

মঙ্গলবার সিটিজেন মুভম্যান্ট আয়োজিত লেসন্স ফ্রম দ্য বিগেস্ট রিগড ইলেকশন ইন দ্য কান্ট্রিস হিস্ট্রি শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ এই এমপি এসব কথা বলেন।

পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলিহলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন, সিটিজেন মুভম্যান্টের আহ্বায়ক এম এ মালেক।

সায়মন ডানসাক বলেন, গত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের এক বছরের মাথায় আমরা এসে দেখলাম- ওই নির্বাচন ছিলো কতকগুলো ভুল কারণের সমষ্টি মাত্র। সেদিনের নির্বাচনের দিন আমরা লক্ষ্য করেছিলাম অনেকের প্রাণহানির ঘটনা। এছাড়াও দেখেছিলাম ৪৭টি সংসদীয় আসনে সহিংসতার কারণে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচন বন্ধ করে দিতে।

তিনি আরো বলেন, ওই দিন সহিংস ঘটনাবলী আর বিরোধীদের নির্বাচন বয়কট, একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনের ফলে রাস্তা-ঘাট অবরোধ ও ব্লক করা হয়েছিলো। বাংলাদেশ থেকে তথা অর্ধ-পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আমরা সেদিন নির্বাচনের নামে বাংলাদেশে এক হরর মুভির মতো ভয়ঙ্কর দৃশ্যাবলী সেলুলয়েডের পর্দার ন্যায় নিউজ স্যাটেলাইটের সুবাধে দেখছিলাম।

সায়মন ডানসাক ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবং ব্রিটেন ও বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলসমূহের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে জানতে চান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

এরপর তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতের দিকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে এক ফ্রেশ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা দরকার।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনী ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ন্যূনতম যে ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে আসা যায় সেটা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা। তাতেই দেশের মঙ্গল।

সায়মন আক্ষেপ করে বলেন, কিন্তু বাংলাদেশের বিরাজমান সংকটের সহজ এবং পরীক্ষিত উপায় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রশ্নে একমত হতে পারছে না বা পারবে না। সেই সম্ভাবনাও আপাততঃ নেই।

সায়মন বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধসহ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন ও অপমানের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনা গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা স্থাপনের পথে অন্তরায়।

কেবি